কিভাবে ভাল জাতের ছাগল দিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে খামার শুরু করবেন?

বাংলাদেশে ছাগল পালন দিনদিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিছুকাল আগে ব্যক্তি পর্যায়ে ছাগল পালন হলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে উন্নতজাতের ছাগল পালন করা হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে ছাগলের খামার শুরু করতে চাইলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা প্রয়োজন:-

 

 

খামারের জন্য ছাগল নির্বাচনঃ

বাণিজ্যিক ভাবে ছাগল পালনের জন্য সর্ব প্রথমে ভালো জাতের ছাগল নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২ টি ছাগল নিয়ে খামার শুরু করাই উত্তম। অল্প সংখ্যক ছাগল নিয়ে শুরু করলে প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই আপনি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় সম্পর্কে হাতে কলমে জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

 

 

আর এই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে আপনি ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারবেন। অন্যদিকে, ছাগল নির্বাচনের সময় ছাগলের বয়সের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে দুই মাস থেকে ছয় মাস বয়সী ছাগল উত্তম হতে পারে। কারণ এই বয়সী ছাগলের বাজার দর তুলনা মূলক কম থাকে।

 

 

পাশাপাশি ছাগলের বয়স কম হলে বিক্রির উপযুক্ত হওয়া বা প্রজননের আগে দীর্ঘ সময় ধরে খামারের চারপাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। আর ছাগলের বাচ্চা অবশ্যই কোন দুগ্ধ উৎপাদনকারী ছাগলের খামার থেকে সংগ্রহ করবেন না। কারণ তারা বেশির ভাগ সময় তাদের খামারের সবচেয়ে নিম্ন মানের ছাগল গুলোই বিক্রি করে থাকে।

 

 

তাছাড়া প্রতি ৮ থেকে ১০ টি ছাগলের বিপরীতে একটি ভালো জাতের পাঠা রাখা যেতে পারে। এতে ছাগলের প্রজনন সহজ হবে।

 

 

বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরি করুন

ছাগল লালন পালন জনিত ব্যয় সময়ের সাথে সাথে অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন রকমের হতে পারে। ছাগলের দাম কেমন হতে পারে সেটি জানার জন্য স্থানীয় কয়েকটি বাজার অথবা কৃষকের খামার ঘুরে দেখে আইডিয়া নেওয়া যেতে পারে। এতে বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে।

 

 

তাছাড়া ছাগলের বাসস্থানের জন্য গৃহ নির্মাণ বাবদ কত খরচ হতে পারে সে সম্পর্কে স্থানীয় মিস্ত্রীদের নিকট হতে ধারণা নেওয়া যেতে পারে। ছাগলের দাম ও গৃহ নির্মাণ জনিত খরচ গুলোর আইডিয়া নেওয়ার পর বিনিয়োগের টাকা কিভাবে সংগ্রহ করা যায় সে দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

 

 

বাসস্থান নির্মাণ

ছাগলের বাসস্থানের জন্য শুষ্ক, উচুঁ এবং বর্ষা কালে পানি জমে না এমন স্থান নির্বাচন করতে হবে। তাছাড়া আশপাশের পরিবেশ খোলামেলা হতে হবে যেন সহজেই পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে। তাছাড়া পানি নিষ্কাশনের সু-ব্যবস্থা থাকতে হবে।

 

 

প্রতি এক জোড়া ছাগলের জন্য ৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা, ১.৫ থেকে ২.৫ ফুট চওড়া এবং ৮ থেকে ৯ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বাসস্থানের প্রয়োজন হয়। ছাগলকে সরাসরি মাটিতে বা ফ্লোরে না রেখে কাঠ অথবা বাশেঁর তৈরি মাচার উপর রাখতে হবে।

 

 

মাটি থেকে মাচার উচ্চতা কমপক্ষে ১ ফুট হতে হবে। ছাগলের মল মূত্র নিষ্কাষনের জন মাচায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি শীত কালে মাচার উপর খড় বিছিয়ে দিতে হবে।

 

 

শীত কাল ছাড়াও বৃষ্টির দিনের জন্য বাসস্থানের চারপাশে চাদর বা ত্রিপাল দ্বারা আবৃত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যেন ছাগলের গৃহে কিছুতেই বৃষ্টির পানি প্রবেশ করতে না পারে।

 

 

বাসস্থান নিরাপদ রাখা

ছাগল লালন পালনের জন্য নির্মিত গৃহের চারপাশের বেড়া অত্যন্ত মজবুত হওয়া জরুরী। যেন কিছুতেই কোন বন্য প্রাণী কিংবা কুকুর শিয়াল আক্রমণ করতে না পারে। তাছাড়া খামার ঘরে যে কোন অনাকাংখিত ব্যক্তির প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকতে হবে।

 

 

খামারের আশপাশে কোন প্রকার বিষাক্ত গাছপালা যেন না থাকে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। খামারের প্রবেশ পথে সব সময় জীবানুনাশক মেশানো পানি রাখতে হবে। যে কেউ খামারে গমন করলে জীবানুনাশক পানিতে পা ধৌত করতে হবে।

 

 

ছাগলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা

ছাগলের স্বাস্থ্যের প্রতি সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। খামারের কোন ছাগল রোগাক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক সে ছাগলটিকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে হবে এবং পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় পশু নিরাময় কেন্দ্র ও সরকারী প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তা নিতে পারেন।

 

 

পরিশেষে আমাদের দেশের আবহাওয়া ছাগল পালনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। তাছাড়া এটি পালন করাও অত্যন্ত সহজ। তাই যে কোন বেকার যুবক বাণিজ্যিক ভাবে ছাগলের খামার করে বেকারত্ব গুচাতে পারে।

 

তথ্যসূত্রঃ এগ্রি কেয়ার ২৪

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA