সহজ উপায়ে দেশী কৈ মাছের চাষ ব্যবস্থাপনা এবং পোনা উৎপাদন

পুকুরে কই মাছ চাষ করা যায়। কই মাছ মূলত কীট-পতঙ্গভূক। পোকামাকড়, ছোট মাছ, ব্যাঙাচী, শামুক বা ঝিনুকের মাংস ইত্যাদি খাদ্য হিসাবে সরবরাহ করলে খাদ্য খরচ কম হয়।চাষের কৈ বিভিন্ন প্রজাতি পাওয়া যায়- থাই কই, ভিয়েতনাম কই এবং দেশি কই ইত্যাদি।

 

 

কৈ মাছ বৈজ্ঞানিক নাম Anabas cobojius। মাছটিকে ইংরেজিতে Gangetic koi বলে। এটি Anabantidae পরিবারের অন্তর্গত। এটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় মাছ।

 

 

চার মাসে কৈ মাছ বিক্রি উপযোগি হয়ে থাকে। চার মাসে থাই কই প্রতিটির গড় ওজন হবে ৭০-৮০ গ্রাম, ভিয়েতনামি কৈ মাছ প্রতিটির গড় ওজন হবে ১৫০-২০০ গ্রাম।

 

 

কই মাছ চাষের পুকুর প্রস্তুতিঃ

পুকুর নির্বাচন ও প্রস্তুতির জন্য নিমোক্ত কাজ পর্যায়ক্রমে করতে হবে।নার্সারি পুকুরে আয়তন ১০ থকে ৫০ শতক এবং পানির গভিরতা ৪ থেকে ৫ ফিট হলে ভাল। পুকুর হতে অবঞ্ছিত ও রাক্ষুসে মাছ এবং আগাছা দুর করতে হবে।

 

 

পুকুরে শুকিয়ে অবঞ্ছিত ও রাক্ষুসে মাছ এবং আগাছা দুর করা উত্তম। তবে পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে প্রতি শতাংশে ১ ফুট পানির জন্য ২৫-৩০ গ্রাম রোটেনন পাউডার অথবা ফোসটক্সিন ট্যাবলেট দিয়ে রাক্ষুসে মাছ দুর করা যায়।

 

 

রোটেনন দেবার ৩-৪ দিন পর পুকুরে প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
চুন প্রয়োগের ৩/৪ দিন পর প্রতি শতাংশে ৫-৭ কেজি গোবর, ১৫০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৭৫ গ্রাম টিএস পি প্রয়োগ করতে হবে।

 

 

নার্সারি পুকুরে ৩-৪ ফিট উচু মশারি জালের বেষ্টনি দিতে হবে যাতে সাপ ও ব্যাঙ পুকুরের ভিতরে ঢুকে রেনু ও পোনার ক্ষতি সাধন করতে না পারে।

 

 

হাস পোকা দমনের জন্য রেনু পোনা মজুদের ২৪ ঘন্টা পূর্বে সুমিথিয়ন দিতে। সুমিথিয়নের ব্যবহারের পরিমান প্যাকের গায়ে লেখা অনুসরণ করা ভাল।

 

 

পানির রং স্থির রাখতে প্রতি শতকে ২৫০ গ্রাম ব্রাইট গোল্ড (দানাদার) প্রয়োগ করা যেতে পারে।সার প্রয়োগের ৫-৭ দিন পর রেনু অথবা ২-৩ ইঞ্ছি সাইজের পোনা মজুদ করা যেতে পারে। পুকুরের তলায় যদি গ্যাস থাকে তাহলে গ্যাস উত্তোলন করার জন্য “গ্যাস টপ” ঔষধ দিতে হবে।

 

 

কৈ পোনা মজুদ এবং ব্যবস্থাপনাঃ

প্রস্তুত কৃত পুকুরে ২-৩ গ্রাম ওজনের প্রতি শতকে ২০০-২২০ টা সুস্থ সবল কৈ মাছের পোণা মজুদ করতে হবে।পোনা মজুদের দিন হতে ৩৪-৩৫% প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দিনে তিন বার সকাল দুপুর এবং বিকালে দেহ ওজনের ২০-২৫ % হারে দিতে হবে।

 

 

অতিরিক্ত প্লাংটন নিধনের জন্য কৈ মাছের পুকুরে ৮-১০ টা তেলাপিয়া এবং ৩-৪ টা পুটি মাছ দেয়া যেতে পারে।

 

 

কৈ মাছের খাদ্য তালিকাঃ

৩৫% প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য কৈ চাষের জন্য উপযোগী। এদের খাবারে প্রাণীজ প্রোটিন বেশী হওয়া আবশ্যক।তা ছাড়া মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য গ্রোথ প্রোমোটর, ভিটামিন ও এনজাইম খাদ্যের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে যেতে পারে।

 

 

ভিটামিন সি মোট খাবারে প্রতি কেজিতে ১-২ গ্রাম করে মিশিয়ে দিলে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মাছ বৃদ্ধি পায়।রেনু পোনা মজুদের পরের দিন থেকে মাছকে তার দেহ ওজনের ১৬ ভাগ থেকে আরম্ভ করে দৈনিক খাবার দিয়ে যেতে হবে এবং প্রতি ১৫ দিন অন্তর খাদ্য প্রয়োগের হার ১% করে কমাতে হবে।মাছের ওজন ৫০ গ্রামের উর্ধ্বে উঠলে খাদ্য প্রয়োগের পরিমান তার দেহ ওজনের শতকরা ৫ ভাগ হতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ এগ্রো বিডি ২৪

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA