গরুর একটি আদর্শ শেড কেমন হওয়া উচিৎ

ডেইরি হোক আর মোটাতাজাকরণ হোক, গরুকে যতোই ভালো খাবার দেওয়া হোক, থাকার জায়গাটা যদি স্বাস্থ্যকর না হয় তাহলে সব কষ্ট শ্রম ব্যয় জলে যাবে।

 

 

খামার শুরু করার আগে গরুর থাকার জায়গা নিয়ে সময় করে ভাবতে হবে। শেড বা গরুর থাকার ঘর বা গোয়াল নিয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ চলবে না। কিছু টাকা বেশি খরচ হলেও, সম্ভব হলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে শেডের ডিজাইন করে নিতে পারলে ভালো হয়।

 

 

অবশ্য এখন ইন্টারনেটেও গরুর শেডের অনেক মডেল পাওয়া যায়। আপনি গুগলে গিয়ে “cattle shed design” লিখে সার্চ দিন বহু ছবি পাবেন। সেখান থেকে আপনার স্থানের আকার এবং আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী একটি ডিজাইন বেছে নিন। এরপর একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে ফাইনাল জিজাইনটা করে নিন।

 

 

নতুন ও অনভিজ্ঞ খামারিদের জন্য নিচে একটি আদর্শ শেডের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো। আশা করা যায়, এতে আপনারা উপকৃত হবেন।

 

 

১. স্থায়ী দেয়াল না তুলে ঝাঁপের মতো করে টিনের দেয়াল দেওয়া ভালো। প্রত্যেক পাশে দুটি স্লাইডিং টিনের বেড়া দেওয়া যায়। যাতে গরমের সময় খোলা রাখা যায়। আবার রাতের বেলা বা শীতের সময় লাগিয়ে দেওয়া যায়। প্রত্যেক বেড়াতেই জানালার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

 

 

২. মেঝে হবে দুই স্টেজের : ক. প্রস্থ গরুর দৈর্ঘ্যের চেয়ে সামান্য বেশি খ. ২-৪ ইঞ্চি নিচু করে পরের স্টেজ। প্রথমটির প্রস্থ এমন হতে হবে যাতে গরুর প্রস্রাব পায়খানা প্রায় নিচের স্টেজে গিয়ে পড়ে। এছাড়া এটি গরুর পায়ের দিকে কিছুটা ঢালু হবে। দ্বিতীয় স্টেজটি দুই হাত প্রশস্ত হবে যাতে লম্বা হাতলযুক্ত কাঠের বা লোহার স্পেড দিয়ে টেনে অথবা ঠেলে মল-মূত্র একপাশে জড়ো করা যায়।

 

 

৩. প্রত্যেক গরুর জন্য আলাদা কেবিন করতে পারলে ভালো। এটি আড়াআড়ি একটি বাঁশ দিয়েও করা যেতে পারে।

 

 

৪. খাবার দেওয়ার জায়গাটি হবে একটি কংক্রিটের নালা। নালাটির প্রস্থ হবে এক থেকে দেড় হাত। গরুর দিকের দেয়ালটি হবে অপেক্ষাকৃত নিচু যাতে সহজেই গরু মুখ দিয়ে ফিডটি খেতে পারে। এই দেয়ালের সাথেই থাকবে পানির চাড়ি। সিমেন্ট দিয়ে গোল/চৌকোণা করে বানানো যেতে পারে।

 

 

তলদেশে একটি ভালবের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে পারে। সামনের দেয়ালটি হবে উঁচু যাতে খাবারটি ছিটে বাইরে না পড়ে। এই নালার প্রান্তে থাকবে পানি নিষ্কাশনের ভালব। অথবা এক মুখ উন্মুক্তও থাকতে পারে। এটি বাঁশ দিয়েও তৈরি করা যেতে পারে। মাঝখানে প্লাস্টিকের বালতি অথবা মাটির সিলিন্ডার আকৃতির চাড়ি বসিয়ে পানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

 

 

দুই সারি গরু মুখোমুখি থাকবে। ডিজাইন: কর্ষণ ডটকম

৫. শেডের পাশে ছায়াযুক্ত স্থানে সাইলেজ তৈরির জন্য আয়তাকার চৌবাচ্চা রাখা যেতে পারে। কাদামাটি অথবা কংক্রিট দিয়ে বানানো যেতে পারে এটি। একপাশ কিছুটা নিচু করতে হবে যাতে ঘাস কাটার মেশিনটিও সেখানে বসানো যায়।

 

 

৬. উঁচু পাটাতনের উপর পানির ট্যাংকি বসাতে হবে। পানির ট্যাংকি হবে প্লাস্টিক অথবা কংক্রিটের। দুটি আলাদা ট্যাংকি রাখা যেতে পারে : একটি ভূগর্ভস্থ পানি, গরুকে খাওয়ানোর জন্য; আরেকটি বৃষ্টির পানি, শুধু শেড ধোয়া মোছা এবং গরুর গোসলের জন্য।

 

 

৭. সাইলেজ ও অন্যান্য জিনিসপত্র রাখার স্টোর রুম।

 

 

৮. একটি ৫ হর্স পাওয়ারের ডিজেল ইঞ্জিন এবং একটি পাম্প। বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যবহার করা যাবে।

 

 

৯. ওয়াটার জেট ওয়াশার একটি। সাথে এক থেকে দেড়শ ফুট হুস পাইপ। এগুলো বাজারে মোটামুটি সস্তায়ই পাওয়া যায়।

 

 

১০. ঘাসের জমি চাষের জন্য একটি ছোট পাওয়ার টিলার কিনলে এক মেশিনেই ৮ ও ৯ নং এর কাজগুলো করা যাবে।

 

 

১১. গরুর গোবর ও মূত্র ফেলার স্থান কখনোই শেডের কাছাকাছি রাখা যাবে না। আবার গোবর-মূত্র ফেলার স্থানটি শেড থেকে বরাবর উত্তরে বা দক্ষিণে না রাখাই ভালো। কারণে এতে বাতাসে সরাসরি শেডে গন্ধ আসবে, সঙ্গে উড়ে আসতে পারে জীবাণুও।

 

তথ্যসূত্রঃ কর্ষণ

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA