ছাগলের জন্য সেরা ঘাস কোনটি?

ছাগল চরে খায় আবার বাঁধা অবস্থায় কাটা ঘাসও খায়। তাজা সবুজ ঘাস এবং হে (বিভিন্ন শস্যের খড়) খেতে পছন্দ করে তারা। এছাড়া গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ এবং গাছের নরম ডগা খেতে খুবই পছন্দ করে করে। এ কারণেই খনা বলেন, ছাগলে মুড়ে খেলে সেই গাছ আর হয় না।

 

 

সবচেয়ে ভালো হয় ছাগল চরে খেলে। খোলা মাঠে বিভিন্ন ধরনের ঘাস খেলে এদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ছাগল সাধারণত খুব বেছে বেছে খায়। তবে কিছু ছাগলের আবার কোনো বাছবিচার নেই, তারা সব খায়। সামনে যা পায় তা-ই খায়।

 

 

ছাগলেরা খামারের কাছাকাছি চারণভূমির মধ্য ঘুরেফিরে ঘাস খেলে সম্পূর্ণ পুষ্টি পায়। বিভিন্ন ধরনের ঘাসের মিশ্রণ তাদের চাহিদা মেটাতে পারে।

 

 

ছাগলের খামার লাভজনক করতে চাইলে অবশ্যই জানতে হবে আপনার ছাগল কোন ধরনের ঘাস পছন্দ করে এবং ছাগলের জন্য সেরা ঘাস কোনগুলো। কিছু সাধারণ ঘাসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

 

 

আলফালফা

বিদেশে কিন্তু চাষ করার ঘাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ করা হয় আলফালফা ঘাসের। ছাগলের জন্য এটাই সেরা ঘাস। এটা ছাগল এবং অন্যান্য চরে খাওয়ার পশুর জন্য বলতে গেলে অমৃত। আলফালফা উচ্চ প্রোটিন, উচ্চ চর্বিযুক্ত শিম জাতীয় উদ্ভিদ। এতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান রয়েছে। গাছের উচ্চতা ৬ থেকে ৮ ইঞ্চির কম হলে ছাগলকে দেবেন না। একটু অপেক্ষা করুন। আপনার ছাগলের জন্য পুষ্টি এবং শক্তির একটি ভালো ভারসাম্য তৈরি করার জন্য আলফালফার সঙ্গে অন্যান্য জাতের ঘাস চাষ করার কথাও ভাবুন।

 

 

আলফালফা ঘাস

বাহিয়াগ্রাস

বাহিয়াগ্রাস সব ধরনের মাটিতে জন্মানোয়। এটি একটি খুবই আবহাওয়া সহিষ্ণু এবং এটি খরা ভালো সহ্য করতে পারে। এমনকি, এই ঘাস এমন কিছু এলাকায় ভালোভাবে জন্মাতে পারে যেখানে অন্য ঘাস একেবারেই হয় না। বাহিয়াগ্রাসের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ অন্যান্য উদ্ভিদের ভিড়েও এরা বেড়ে উঠতে পারে। ফলে চারণভূমিতে এই ঘাস রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর খুরের ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্যান্য ঘাস সেরে উঠতে বেশ সময় নেয়। কিন্তু বাহিয়াগ্রাস দ্রুতই সেরে ওঠে এবং আবার খাওয়ার উপযোগী হয়।

 

 

খাদ্যের উৎস হিসেবে বাহিয়াগ্রাস মানের দিক থেকে কিছুটা নিম্ন। কিন্তু অন্যান্য ঘাস যখন নষ্ট হয়ে যায়, বিশেষ করে খরার সময় তখনও এই ঘাস আবাদি জমি বা চারণভূমিতে বহাল তবিয়তে থাকে।

 

 

বাহিয়া ঘাস

ব্রোমগ্রাস

ব্রোমগ্রাস উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ। তাপমাত্রা খুব বেশি না হলে এই ঘাস ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। অর্থাৎ শীতকালে ভালো হয়। গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত উষ্ণ তাপমাত্রায় (প্রায় ৯০° ফারেনহাইট) এর বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়। ব্রোমগ্রাস দ্রুত বাড়ে এবং লম্বা হয়। অন্যান্য ঘাস যেমন আলফালফার সঙ্গে আবাদ করা হলে ফলন ভালো হয়। আবার পুষ্টিমানও বাড়ে।এছাড়া ব্রোমগ্রাস বহুবর্ষজীবী এবং খরা প্রতিরোধী ঘাস। ব্রোমগ্রাস চারণভূমির জন্য উপযুক্ত। সহজে হজম হয়।

 

 

ব্রোম ঘাস

ক্লোভার

ক্লোভার একটি শিম জাতীয় উদ্ভিদ, ঘাস নয়। এটি স্বাদে মিষ্টি এবং সব ধরনের ছাগলই এটি খুব মজা করে খায়। চারণভূমিতে ক্লোভার যোগ করা ভালো।

 

 

চারণভূমিতে সারা বছর ঘাস রাখতে চাইলে ক্লোভার রাখাটা বেশ কার্যকর উপায়। ক্লোভার একটি নাইট্রোজেন ফিক্সার উদ্ভিদ। অর্থাৎ শিম জাতীয় অন্যান্য ফসলের মতো এই ঘাসও মাটিকে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করে। এতে উর্বরতা বাড়ে। ফলে ক্লোভার একই জমিতে নিজেই অন্যান্য গাছপালার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে চারণভূমিতে ক্লোভার লাগালে এটি অন্যান্য উদ্ভিদ বা ঘাসের বৃদ্ধির জন্য সহায়ক নাইট্রোজেন মাটিতে যোগ করবে। এছাড়া ক্লোভার মাটির ক্ষয় রোধ করে।

 

 

ছাগলের খাবর হিসেবে ক্লোভার

ফেসকিউ

ফেসকিউ (Fescue) একটি শীতকালীন ঋতু বহুবর্ষজীবী ঘাস। এটি আর্দ্র এবং শীতল আবহাওয়ায় ভালভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। অর্থাৎ কুয়াশাতে এর বৃদ্ধি ভালো হয়। এক জমিতে প্রতি বছর এই ঘাস লাগানোর দরকার নেই, একবার লাগালেই হয়। এ ঘাম অত্যন্ত খরা সহ্য করতে পারে। এছাড়া রোগ এবং পোকামাকড় প্রতিরোধী গুণ আছে। সাধারণত ছাগল চারণভূমিতে ব্যাপকভাবে ঘুরে বেড়ায়। এতে খুরের আঘাতে অন্যান্য ঘাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফেসকিউ এমন পরিস্থিতিতেও ক্ষেতে টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে।

 

 

এই ঘাসের নাম ফেসকিউ
বাজরা

বাজরা খুব দ্রুত বর্ধনশীল ঘাস। কোনো ধরনের যত্ন না নিলেও বাজরা দ্রুত বাড়ে, ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। এটি বার্ষজীবী ঘাস। ছাগলের জন্য শীতকালীন হে (খড়) উৎপাদনের জন্য বাজরা খুবই উচ্চফলনশীল ঘাস হতে পারে। চারণভূমিতে অন্যান্য ঘাসের সঙ্গে আবাদ করলে বাজরা যখন ১৮ ইঞ্চি লম্বা হয় তখনই ছাগল চরানো ভালো। তখন মিশ্র ঘাস ভারসাম্যপূর্ণ পুষ্টিকর খাবারে পরিণত হবে। বাজরা প্রচুর প্রোটিন সমৃদ্ধ। বাজরায় হজমযোগ্য প্রোটিনের পরিমাণ ভুট্টার চেয়ে বেশি। বাজরার প্রোটিনের মান বার্লি এবং ওটসের সাথে তুলনীয়।

 

 

খাদ্যশস্যের পাশাপাশি ছাগলের খাবার হিসেবেও ব্যবহার করা যায় বাজরা

রাইঘাস

রাইঘাস একটি সমৃদ্ধ এবং উচ্চ মানের ঘাস। এটি বহুবর্ষজীবী ঘাস এবং মধ্যম নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভালো জন্মে। এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। খুব ঘন করে আবাদ করা যায়। আবার দ্রুত বৃদ্ধ পায় এ কারণে ঘন ঘন ছাগল চরানো যায়। রাইগ্রাসের অনেক জাত রয়েছে। মরিচা রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করার চেষ্টা করুন, কারণ রাইগ্রাস মুকুট মরিচা রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।

 

 

ছাগলের জন্য একটি পুষ্টিকর শীতকালীন ফিড তৈরির জন্য, হে তৈরির জন্য রাইঘাস কেটে লাল ক্লোভার বা অন্যান্য ঘাসের সাথে মিশিয়ে শুকাতে পারেন।

 

 

রাই ঘাস

টিমোথি

টিমোথি ঘাস আলফালফার একটি ভালো বিকল্প। যদিও ছাগল অন্যান্য ঘাসের মতো অতোটা খেতে পছন্দ করে না। কিন্তু আলফালফা পাওয়া না গেলে মাটিতে টিমোথি খাওয়াতে পারেন। এটি মিষ্টি গন্ধযুক্ত, উচ্চ ক্যালরি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ ঘাস। তবে প্রোটিনের পরিমাণ কম। যদি ছাগল খুব বেশি চারণ না করে তবে এটি প্রায় ৩০ ইঞ্চি লম্বা হতে পারে। টিমোথি ঘাস বালুকাময় মাটিতে ভালো জন্মায়। এ কারণে অবশ্যই ভালো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে এমন জমিতে এ ঘাস আবাদ করতে হবে।

 

তথ্যসূত্রঃ কর্ষণ

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA