গরুর গোবরের ব্যাবহার মাছ চাষের ক্ষেত্রে ভালো নাকি খারাপ?

মাছ চাষে গরুর গোবর ব্যবহারঃ ভালো নাকি খারাপ? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার আগে অন্য বিষয়ে কিছুটা জেনে নেয়া যাক।

 

 

একটা সময় মৎস্য কর্মকর্তারাই পুকুরের উপর মাঁচা তৈরী করে হাঁস মুরগী পালন করার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল যারা মাঁচা তৈরী করে মুরগী পালন শুরু করছে তাদের পুকুরের মাছ বিভিন্ন জীবাণু এবং ভাইরাসে আক্রান্ত হতে লাগল।বর্তমানে এ পদ্ধতি সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ।

 

 

এবার আসা যাক গরুর গোবরে, একসময় খোদ মৎস্য কর্মকর্তারাই শতকে ৫/৭ কেজি গোবর প্রয়োগ করতে পরামর্শ দিয়েছিল কিন্তু বর্তমানে সরাসরি গোবর প্রয়োগে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

 

 

মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কেন?

আজ থেকে ২/৩ বছর আগেও এত আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার ও বিজ্ঞানসম্মত ভাবে মাছ চাষ করা হতনা। যার ফলে মাছের রোগ সম্পর্কে কারো তেমন কোন ধারণা ছিলনা এবং কেন রোগ গুলো হচ্ছে সে সম্পর্কে বাস্তব ধারনায় ছিলনা।

 

 

বর্তমানে রোগের ঔষধ ও রোগের কারন নির্ণয় করতে গিয়ে দেখা গেল, বর্তমান আবহাওয়া ও পরিবর্তিত জলবায়ুর কারনে বায়ো-সিকিউরিটি মেইন্টেন করে মাছ চাষ না করলে উৎপাদন এবং লাভ করা দুটোই অসম্ভব।

 

 

যারা গোবরকে জৈবসারে পরিনত না করে অপরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করছেন, তাদের পুকুরে এ্যামোনিয়া গ্যাসের সমস্যা লেগেই আছে এবং মাছের মুখে ও শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতরোগ দেখা যায়।

 

 

আদৌ কি মাছ চাষে গরুর গোবর ব্যবহার করা যাবে?

উত্তর হল সরাসরি গোবর ব্যবহার না করে উক্ত গোবরের সাথে সরিষার খৈল ও সামান্য পরিমানে ইউরিয়া টিএসপি সার মিশিয়ে ১৫ থেকে ১৮ দিন রেখে, তারপর মিশ্রনটি ভালভাবে উলোট-পালট করে খোলা জায়গায় ২৪ ঘন্টা রেখে, গ্যাস বের করে দিয়ে তারপর শতকে ১ থেকে ১.৫ কেজি হারে প্রয়োগ করতে পারবেন।

 

 

এটা শুধু মাত্র কার্প জাতীয় মাছ চাষে ব্যবহার করতে পারবেন। মেঘলা আকাশ, শীতকাল, ও বৃষ্ঠির দিনে কোনমতেই ব্যবহার করা যাবেনা।

 

 

পাবদা, গুলসা, শিং, মাগুর, কৈ চাষে গোবর ব্যবহার করা উচিত নয়। যারা এধরনের চাষে গোবর ব্যবহার করবেন তাদের মাছের শরীরে ক্ষতরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

 

 

একটা কথা মনে রাখবেন প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত পোনার চাইতে হ্যাচারীতে উৎপাদিত পোনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম। তাই মাছ চাষে বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

 

 

গোবর আমরা কেন ব্যবহার করি?

প্রাকৃতিক খাবার তৈরী করার জন্যই তো? এই প্রাকৃতিক খাবারটা আমরা সরিষার খৈল, অটোব্রান, আটা, চিটাগুড়, ঈষ্ট, এবং রাসায়নিক সার হিসাবে ইউরিয়া ও টিএসপি সার ব্যবহার করেও করতে পারি।

 

 

পরিশেষে বলব আসুন সকলে বায়ো-সিকিউরিটি মেনে মাছ চাষ করি, বিভিন্ন সমস্যা ও রোগ-বালাই থেকে মাছকে দূরে রাখি।

 

তথ্যসূত্রঃ আধুনিক কৃষি খামার

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA