লাভজনক বিদেশী জনপ্রিয় সবজি ব্রোকলি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের

বিদেশী জনপ্রিয় সবজি পুষ্টিসমৃদ্ধ ব্রোকলি বা সবুজ ফুলকপি’র ভাল ফলন এবং লাভবান হওয়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে দিনাজপুরের বিভিন্ন স্থানে। বর্তমানে এটা লাভজনক হিসেবে দিনদিন কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শীতকালিন সবজি এই ব্রোকলি অন্যান্য সবজি অপেক্ষা বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ।

 

 

ব্যাপক লাভবানের আশায় কৃষক মতিয়ারসহ অনেক কৃষক এই ব্রোকলি এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। প্রথমবার লাভবান হওয়ায় আবারও এই ব্রোকলির চাষ করছেন চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নশরতপুর গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান। গতবার ব্রোকলির (সবুজ ফুলকপি) ফলন ভাল এবং বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকার বেশি লাভ করেছেন। তাকে অনুকরণ করে এবার ওই অঞ্চলে অনেক কৃষক এই ব্রোকলি চাষ করছেন।

 

 

ব্রোকলি রোপণের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে পুষ্পমঞ্জুরি সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। ধারালো ছুরি বা ব্লেড দ্বারা তিন ইঞ্চি কাণ্ডসহ পুষ্প মঞ্জুরি কেটে সংগ্রহ করতে হয়। এভাবে একই জমি থেকে ১ মাসব্যাপী কয়েকবার ব্রোকলি সংগ্রহ করা যায়। পুষ্প মঞ্জুরি মোটামুটি জমাট বাঁধা অবস্থায় সংগ্রহ করা উচিত। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে হেক্টরপ্রতি ফলন ১২-১৩ টন পাওয়া যায় বলে কৃষি বিভাগ জানায়।

 

 

দেশের সব অঞ্চলেই ব্রোকলি চাষ করা যেতে পারে। ব্রোকলি উঁচু জমিতে বাম্পার ফলন হয়। সাধারণত যে ধরনের জলবায়ুতে ফুলকপির চাষ হয় সেখানে ব্রোকলি ভালো জন্মে। তবে ব্রোকলির পরিবেশ উপযোগিতার সীমা একটু বেশি বিস্তৃত। পানি জমে না এরূপ উঁচু জমি, উর্বর দো-আঁশ মাটি হলে ফলন ভালো পাওয়া যায়।

 

 

ব্রোকলির গাছ ১৫-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালো জন্মে। সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন জমি ব্রোকলি চাষের জন্য নির্বাচন করতে হয়।

 

 

ব্রোকলির সফল চাষের জন্য মাটিতে যথেষ্ট পরিমাণে জৈবসার থাকা প্রয়োজন। পাহাড়ের পাশে উঁচু জমিগুলোতে ব্রোকলি চাষ হয়ে থাকে। তবে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন জমি ব্রোকলি চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। ব্রোকলি এপ্রিল মাসের পরেও ভালো ফলন দিতে পারে।

 

 

চিরিরবন্দরের কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, তার জমিতে আবারও ব্রোকলি চাষ করেছেন। তিনি গতবার রংপুরের সিও বাজার থেকে ব্রোকলির বীজ সংগ্রহ করেন এবং ১৮ শতক জমিতে ১২২৫টি ব্রোকলির চারা লাগিয়ে ভাল ফলন পেয়েছিলেন।

 

 

তাই আবারও ব্রোকলির চাষ করছেন। তিনি এ জমি থেকে ৪০ হাজার টাকার লাভ করবেন আশা করছেন। এছাড়াও তিনি ওলকপি, ফুলকপি, শালগম, বেগুন, মরিচ ও আলু চাষ করছেন।

 

 

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, সুস্বাদু সবজি ব্রোকলি দিনাজপুর অঞ্চলে আবাদের উপযোগী। তবে চাষিরা পরামর্শগুলো কাজে লাগাতে পারলে ব্রোকলি চাষ করে লাভবান হতে পারবেন। ইউরোপ দেশের রুচিশীল সবজি হিসেবে পরিচিত ব্রোকলি বাংলাদেশের ফুলকপির মতো তাই এটিকে অনেকেই বলেন ‘সবুজ ফুলকপি’।

 

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA