খামারে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগে এখন কোটিপতি রাসেল

মো. রাসেল। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান। একটি ছাগলে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করে তিনি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। বর্তমানে তার খামারে ৫০টি ছাগল ও ২৭টি গরু রয়েছে। এতে মূলধন দাঁড়িয়েছে ১ কোটি টাকার ওপর।

 

 

গরু পালন, দুধ বিক্রি, গোবর, বায়োগ্যাস প্লান্ট, কেঁচো দিয়ে জৈবসার প্রস্তুত করে ১২ বছরে কোটিপতি বনে যান সফল এ উদ্যোক্তা। নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন ‘রাসেল ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বাবা আবদুল হালিম, মা, ভাই ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দেখভাল করেন এ খামার।

 

 

জানা যায়, ছোটবেলা থেকে ব্যাংকার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের চাপে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে পড়তে হয়েছে বিজ্ঞান বিভাগে। কিন্তু পড়াশুনা বেশিদূর আর এগোয়নি। ছাত্রজীবন থেকে বাবার কাছ থেকে নেওয়া ১০/২০ করে টাকা জমিয়ে শখের বশে ২০ হাজার টাকায় একটি ছাগল কেনেন তিনি।

 

 

ওই ছাগল থেকে ৩টি বাচ্চা হয়। বাচ্চাগুলো বড় করে বিক্রি করেন এক লাখ টাকা। ব্যবসার এক লাখ ও জমানো আরও ১ লাখ টাকা দিয়ে একটি শংকর জাতের গাভী ও উন্নত জাতের দুইটি ছাগল কেনেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ১২ বছরেই কোটিপতি বনে যান সফল এই উদ্যোক্তা।

 

 

রাসেল ডেইরি ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, ৪০ শতাংশ জমির উপর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। খামারে লোহার খাঁচায় সারি সারি বাঁধা রয়েছে বকনা গরু ও ছাগল।

 

 

সফল খামারি রাসেলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ২০১০ সালে ফিজিয়ান জাতের একটি গাভী থেকেই প্রজনন সম্প্রসারণ শুরু। বর্তমানে খামারে ২টি ষাঁড়, ১৫টি গাভী ও ১০টি বাছুরসহ ২৭টি গরু রয়েছে।

 

 

বর্তমানে ১৫টি গাভী থেকে প্রতিদিন ১০০ লিটার দুধ পান তিনি। এছাড়া দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল, দেশি মোরগ-মুরগি, কবুতর পালনও শুরু করেছেন তিনি।

 

 

খামারি রাসেল বলেন, খামারে বাছুর হলো লাভের অংশ। বছর শেষে ৪০টি বাচ্চা হয় সাধারণত। বাছুর থেকে বছরে আয় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে খামারে তার দেড় কোটি টাকার গরু ও ছাগল রয়েছে। বোয়ার, তোতাপুরি, হারিয়ানা, বিটল, শিরহি ও যমুনাপারি নামের জাতের ছাগল রয়েছে। গরুর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় খরচ কমাতে কাঁচা ঘাসের কোনো বিকল্প নেই। খরচ সাশ্রয় হলে খামারি লাভবান হতে পারবে।

 

 

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন আহাম্মদ জানান, এ এলাকায় রাসেল বেকার যুবকদের একটা উদাহরণ। স্বল্প সময়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি খামারের পরিসর বাড়াতে পেরেছেন। আত্মপ্রত্যয়ী এই যুবকের খামার দেখে বেকারত্ব দূর করতে অন্যরাও এগিয়ে আসবে বলে মনে করেন এই জনপ্রতিনিধি।

 

 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আইয়ুব মিঞাঁ রানা বলেন, রায়পুরের খামারি রাসেল গরু ও ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী। তার খামারের গবাদি পশুগুলোকে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। পশু লালন-পালনে তাকে নানা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানালেন এই কর্মকর্তা।

 

তথ্যসূত্রঃ রাইজিং বিডি

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA