লাভ কয়েক গুণ বেশি হচ্ছে একই জমিতে ধান-মাছের চাষে

ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া অন্যতম মৎস্য উৎপাদন খ্যাত হিসেবে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে। এ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষই অর্থনীতি উন্নয়নে মাছ চাষ করে এক অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।

 

 

কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা বিল, পুকুর, জলাশয় ও ফসলি জমিতে বাঁধ দিয়ে তারা মৎস্য চাষ করছেন। পাশাপশি নিচু এলাকার এক ফসলি ধান জমিতে করছেন বাঁধ দিয়ে মাছ চাষও।

 

 

স্থানীয় মৎস্য চাষি ও কৃষকরা এ পদ্ধতিতে মাছ ও ধান চাষ করে এলাকায় এক নীরব বিল্পব ঘটিয়েছে। সমন্বিত এ চাষে বর্তমানে স্থানীয় চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, এ উপজেলায় বৎসরে উৎপাদিত হচ্ছে ৪ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন মাছ। এখানে মাছের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন। উদ্ধৃত থাকছে ১ হাজার ১৪৫ মেট্রিক টন। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বাইরে সরবরাহ করা হয়।

 

 

জানা যায়, পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমিগুলোতে প্রতি বছর এক ফসলি ধান চাষ করা হয়। বর্ষার সময় ওইসব জমিতে অন্তত ৫-৬ মাস পানি থাকে। ধান কাটার পর ওইসব জমিগুলো প্রায় ৭ মাসের বেশি সময় খালি পড়ে থাকে। তখন নিচু জমিগুলোতে বাঁধ দিয়ে বা প্রজেক্ট তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষ শুরু করছে স্থানীয় কৃষকরা।

 

 

চাষকৃত মাছের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়া,পাঙাশ, স্বরপুটি, কার্ফ, গ্রাসকাপ, বোয়ালসহ নানা প্রজাতির মাছ। দিনের পর দিন বাড়ছে চাষের পরিধিও।

 

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম জানান, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। একই জমিতে ধান ও মাছ চাষে জমি উর্বর থাকে। ফলনও ভালো হয়। তবে বেশি ভাগ মৎস্য চাষি রয়েছেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ধান ও মাছ উৎপাদনে কোনো সমস্যায় চাষিরা আমাদের কাছে আসলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করে থাকি।

 

 

মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, এ উপজেলায় অনেক মৎস্য চাষি একই জমিতে দুই চাষ করে বেশ চমক সৃষ্টি করেছেন। একই জমিতে পৃথক দু’চাষে জমি উর্বর থাকে। যা ফসলের জন্য খুবই উপকারী। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে চাষিদের সব সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

তথ্যসূত্রঃ এগ্রি ভিউ

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA