যেনে নিন কিভাবে বিয়ে বাড়ির মতো করে রান্না করবেন, রইলো রেসিপি

এই শীতের মৌসুমে বিয়ের দাওয়াত থাকে কম বেশি সকলেরই। অনেক বিয়ের দাওয়াত খাবার পর আমারা খাবারের অনেক প্রশংসা করি। খুজতে থাকি ঐ বাবুর্চিকে। এখন আর বাবুর্চি খুজতে হবে না। বিয়ে বাড়ির মতো করে রান্না হবে আপানর ঘরেই। যেনে নেই কিভাবে তৈরি করবো সেই রান্না।

১. বিয়ে বাড়ির পোলাও.

বিয়ে বাড়ির গরম পোলাওয়ের সঙ্গে ঝাল মাংসের রেজালা ও রোস্ট খেতে খুবই সুস্বাদু। জেনে নিন কীভাবে পোলাও রান্নায় নিয়ে আসবেন বিয়ে বাড়ির স্বাদ।

যা লাগবে

সয়াবিন তেল- ১/৪ কাপ
শাহী জিরা- ১/৪ চা চামচ

তেজপাতা- ২টিদারুচিনি- ২ টুকরা
এলাচ- কয়েকটি

লবঙ্গ- কয়েকটি
পেঁয়াজ কুচি- আধা কাপ

কালিজিরা পোলাওয়ের চাল- ২ কাপ
আদা বাটা- ১ চা চামচ

রসুন বাটা- আধা চা চামচ
কাজুবাদাম অথবা কাঠবাদাম বাটা- ২ টেবিল চামচ

লবণ- স্বাদ মতো
আস্ত কাঁচামরিচ- ৭/৮টি

বাটার অয়েল অথবা ঘি- ২ টেবিল চামচ
আলুবোখারা- ৩টি
কিসমিস- ১ টেবিল চামচ

গোলাপজল- কয়েক ফোঁটা
কেওড়া জল- কয়েক ফোঁটা

যেভাবে করবেন

হাঁড়িতে সয়াবিন তেল দিয়ে শাহী জিরা, তেজপাতা, লবঙ্গ, এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে দিন। তেজপাতা সামান্য ছিঁড়ে দেবেন। সামান্য ভেজে নিন তেলে। বুদবুদ উঠলে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে নাড়তে থাকুন। বেশি ভাজার দরকার নেই। পেঁয়াজের রং সাদাটে থাকা অবস্থায়ই পোলাওয়ের চাল দিয়ে দিন। হাঁড়িতে দেওয়া আধা ঘণ্টা আগে চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখবেন। এতে ঝরঝরে হবে পোলাও। একটু সময় নিয়ে চাল ভাজুন। সুগন্ধ বের হওয়া শুরু করলে গরম পানি দিয়ে দিন। যে কাপে চাল মেপেছেন, সেই কাপের দ্বিগুণ পানি দিতে হয় পোলাও রান্নার জন্য। তবে বিয়ে বাড়ির পোলাওয়ের ক্ষেত্রে বাবুর্চিরা পানির সঙ্গে দুধ ব্যবহার করেন। একদম পারফেক্ট স্বাদের বিয়ে বাড়ির পোলাও রান্না করতে চাইলে তাই ৩ কাপ পানি ও ১ কাপ দুধ দিন। পানি ও দুধ ফুটন্ত গরম হতে হবে। আদা ও রসুন বাটা দিয়ে দিন। বাদাম বাটা ও লবণ দিয়ে চুলার আঁচ মিডিয়াম টু হাই করে দিন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। চাল ও পানির লেভেল সমান হয়ে আসলে আরেকটু নেড়ে আস্ত কাঁচামরিচ দিন।

চুলার আঁচ একদম কমিয়ে হাড়ি ঢেকে দিন। ঢাকনায় যেন কোনও ছিদ্র না থাকে। এভাবে ১৫ মিনিটের জন্য দমে রাখুন। ১৫ মিনিট পর ঢাকনা উঠিয়ে বাটার অয়েল কিংবা ঘি ছিটিয়ে দিন। আলুবোখারা, কিসমিস ও কয়েকটি কাঠবাদাম ছিটিয়ে দিন। কেওড়া জল ও গোলাপজল দিন। হালকা করে সব উপকরণ মিশিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে আরও ১৫ মিনিট দমে রাখুন। পরিবেশনের পাত্রে ঢেলে পেঁয়াজ বেরেস্তা ছিটিয়ে মজাদার পোলাও পরিবেশন করুন।

২. ঘরোয়া পদ্ধতিতে বিয়ে বাড়ির সবজি রেসিপি

আমরা বিয়ে বাড়ির সবজি সবাই পছন্দ করি। বেশ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকি। কেননা বিয়েবাড়ির সবজির স্বাদ ও গন্ধ থাকে একেবারে আলাদা। তাহলে দেরি কেন? ঘরেই হয়ে যাক বিয়েবাড়ির সবজির আয়োজন। আসুন দেখে নেই রেসিপিটি।

যা লাগবে

ফুলকপি – ১/২ কাপ
গাজর – ১/২ কাপ

পেঁপে – ১/২ কাপ
বাধা কপি (বড় কিউব করে কাটা) – ১ কাপ

বরবটি ১/২ কাপ
আলু ১/২ কাপ

পেঁয়াজ মোটা করে কাটা – ১ কাপ
কাঁচামরিচ ফালি – ৫ টি

লেবুর রস ১ টেবিল চামচ
লবন পারিমান মত

ফোঁড়নঃ
রসুন কুঁচি ১ চা চামচ

পেঁয়াজ কুঁচি ১ টেবিল চামচ
তেল ১ টেবিল চামচ

মাখন _ ১ টেবিল চামচ
তেজপাতা ১ টি
পাঁচফোড়ন ১/২ চা চামচ

যেভাবে করবেন

সবজি কেটে ধুয়ে লবন দিয়ে হালকা সিদ্ধ করে নিন। ফ্রাইপ্যানে তেল তেল ও মাখন দিয়ে ফোঁড়ন এর উপকর গুলো দিয়ে একটু বাদামী করে সিদ্ধ সবজি দিয়ে নাড়তে থাকুন। নামানোর আগে লেবুর রস দিয়ে দিন। রুটি বা পরোটার সাথে পরিবেশন করুন।

৩. বিয়ে বাড়ির রোস্ট রান্না

শিগগিরই কোনো দাওয়াত নেই। অথচ বিয়ে বাড়ির খাবারের কথা মনে করে মুখে আসছে জল! তাহলে নিজেই তৈরি করুন মুরগির এই সুস্বাদু ব্যঞ্জন।

যা লাগবে

মুরগির বড় টুকরা ৪টি। মিষ্টি দই ১/৪ কাপ (মিষ্টি দই না থাকলে টক দইয়ের সঙ্গে ১ চা-চামচ বা স্বাদ মতো চিনি মিশিয়ে নিন)। পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ। তেল ১/৪ কাপ ও ২ থেকে ৩ টেবিল-চামচ। ঘি ১ চা-চামচ। কাঁচামরিচ আস্ত ৭/৮টি। মাওয়া ২ চা-চামচ। লিকুইড দুধ ১ কাপ। লবণ স্বাদ মতো। আদাবাটা ১ চা-চামচ। রসুনবাটা আধা চা-চামচ। লালমরিচ-গুঁড়া ১ চা-চামচ। সাদা-গোলমরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ। টমেটো সস ১ চা-চামচ। জর্দার রং সামান্য। কেওড়া বা গোলাপ জল সামান্য। লং ২-৩টি। এলাচ ২টি। দারুচিনি ছোট টুকরা। তেজপাতা ১টি।

স্পেশাল মসলা

আধা চা-চামচ এলাচ। আধা চা-চামচ দারুচিনি। আধা চা-চামচ শাহি জিরা (মিষ্টি জিরা)। ১ চা-চামচ গোলমরিচ। ১ চা-চামচ জয়ত্রী। ১টা জায়ফল। সব মিহি ব্লেন্ড করে নিতে হবে। তবে চুলায় দিয়ে ভাজতে হবে না। এখান থেকে রোস্টে আধা চা-চামচ ব্যবহার করতে হবে।

যেভাবে করবেন

প্রথমে মাংসগুলো ধুয়ে টিস্যু দিয়ে মুছে নিন যেন ভাজার সময় তেল ছিটকে না আসে।

এবার লবণ ও সামান্য জর্দার রং মিশিয়ে মাংসের গায়ে মাখিয়ে নিন। মাংসের টুকরাগুলো বেশ বড় হলে ছুরি দিয়ে দাগ কেটে দেবেন। নয়ত ভেতরে মসলা ঢুকবে না।

এবার চুলায় ১/৪ কাপ তেল গরম করে দুই টুকরা করে মাংসগুলো হালকা বাদামি করে ভেজে নিন।

খেয়াল রাখতে হবে কী মুরগি ব্যবহার করছেন। যদি দেশি মুরগি হয় তাহলে দুতিন মিনিট সামান্য ওলটপালট করে ভেজে তুলে নেবেন। আর যদি ফার্মের মুরগি হয় তাহলে মিনিট পাঁচেক মাংসটা বাদামি করে ভেজে নেবেন।

দেশি মুরগি এমনিতেই শক্ত থাকে। যদি বেশি ভেজে ফেলেন তাহলে মাংস আরও শক্ত হয়ে যাবে। আর ফার্মের মুরগি নরম থাকে। তাই একটু সময় নিয়ে ভাজলে রান্নার সময় মাংসটা গলে যায় না।

ভাজা হলে সব মাংস তুলে রাখুন। এই তেলে আরও দুতিন টেবিল-চামচ তেল দিন।

এবার একটি বাটিতে সব মসলা আগে মিশিয়ে, দই, সামান্য লবণ, আদা ও রসুন বাটা, গোলমরিচগুঁড়া, লালমরিচ গুঁড়া, টমেটো সস এবং সামান্য পানি দিয়ে মিশিয়ে গরম তেলে ছেড়ে দিন।

মাঝারি তাপে মসলা ভেজে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন পুড়ে না যায়। সঙ্গে আস্ত গরম মসলাগুলোও দিয়ে দিন। এখন মসলাটা ঢাকনা দিয়ে রাখুন। কষাবেন না, কারণ দই ফেটে যাবে।

যদি মিষ্টি দই না থাকে টক দইয়ের সঙ্গে কিছু চিনি মিশিয়ে নিলেই হবে। তবে বেশি চিনি আগেই দেবেন না। দরকার পড়লে নামানোর আগে লবণ ও চিনি দেখে যোগ করবেন। এটা খুব জরুরি।

মসলা কষানো হলে মাংসগুলো একে একে বসিয়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে মাঝারি থেকে একটু কম আঁচে মাংস কষান। তবে মাংস বার বার চামচ দিয়ে নাড়তে যাবেন না। হাঁড়ি ধরে মাংসটা নাড়িয়ে দেবেন।

মাংস একপাশ কষানো হলে এবার অন্যপাশ উল্টিয়ে দিন। আরও মিনিট পাঁচেক কষান। এবার মাংস কষানো হলে দুধ দিয়ে এক থেকে দেড় মিনিট ঢেকে রাখবেন। এরপর ঢাকনা তুলে নিন। নয়ত দই ও দুধ ফেটে, ফাটা ফাটা মসলা হয়ে যাবে।

এখন ঢাকনা ছাড়া একটু আঁচ বাড়িয়ে মাংস কষিয়ে নিন। এই পর্যায়ে এসে লবণ, চিনি, ঝাল সব দেখে দরকার পড়লে বাড়িয়ে নিন। যখন দুধ আস্তে আস্তে ঘন হয়ে আসবে ও মাংস সিদ্ধ হয়ে যাবে তখন স্পেশাল মসলা, পেঁয়াজ বেরেস্তা ও আস্ত কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে পাঁচ মিনিট রাখুন।

আবার ঢাকনা তুলে মাওয়া ও কেওড়া জল দিন। মাওয়াটা আস্তে আস্তে ভেঙে দেবেন আর মাংসগুলো এপিঠ-ওপিঠ উল্টিয়ে দেবেন। এবার ঘি দিয়ে আরও দুতিন মিনিট রেখে নামিয়ে নিন।

ব্যাস রোস্ট রেডি।

খেয়াল রাখবেন

অনেক মানুষের জন্য রোস্ট করলে মাংসের টুকরাগুলো আরও ছোট নিলে ভালো হয়। আর মাংস বেশি ভুনা না করে একটু ঝোল ঝোল রাখলে ভালো। রান্নার সময় অর্ধেক ঝোল রেখে নামিয়ে নেবেন। কারণ পরিবেশনের আগে আবার গরম করলে ঝোল একদম ঘন হয়ে যাবে। তাই এদিকটা বুঝে নিজের আন্দাজ মতো গ্রেইভি করে নেবেন।

এখানে চার টুকরা মুরগির মাংসের পরিমাণে পদ্ধতি দেওয়া আছে। মাংসের পরিমাণ কম বা বেশি হলে সেই অনুপাতে সব উপাদান কম-বেশি করে নেবেন। নয়তো স্বাদ ভালো হবে না।

৪. বিয়ে বাড়ির খাসির রেজালা তৈরি করুন ঘরেই

বিয়ে বাড়ির অন্যতম আকর্ষণ থাকে খাসির রেজালা। অনেকেই বাড়িতে এই পদ তৈরির চেষ্টা করলেও বেশিরভাগ সময়ই বাবুর্চিদের মতো রং ও স্বাদ আনতে পারেন না রান্নায়। এই রেসিপির মাধ্যমে জেনে নিন, কীভাবে ঘরেই সহজে তৈরি করবেন বাবুর্চিদের মতো সুস্বাদু খাসির রেজালা।

যা লাগবে

খাসির মাংস ১ কেজি, টক দই ১ কাপ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ, ঘি ১/৪ কাপ, তেল ১/৪ কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি ১ কাপ, লবণ স্বাদমতো, আদা ও রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদ ১ চা চামচ, মরিচগুড়া ২ চা চামচ, কাশ্মিরী মরিচের গুড়া ১ চা চামচ, বাদাম বাটা ১/৪ কাপ, পোস্তদানা বাটা ২ টেবিল চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ, এলাচ-দারচিনি বাটা আধা চা চামচ, জয়ফল-জয়ত্রী বাটা আধা চা চামচ, আধ কাপ দুধ, আধ কাপ পানি, আধ চা চামচ কেওড়া জল, কাঁচামরিচ ৪-৫ টি, আলুবোখারা দুটি, চিনি স্বাদমতো।

যেভাবে করবেন

১. টক দই এবং অর্ধেকটা বেরেস্তা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। মিশ্রণটি খাসির মাংসে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
২. কড়াইয়ে ঘি ও তেল ঢালুন। এতে পেঁয়াজ ঢেলে দিন। হালকা লালচে রং ধারণ করা পর্যন্ত ভাজতে থাকুন।

৩. লবণ ও আদা-রসুন বাটা দিয়ে নাড়ুন। হলুদ ও মরিচের গুড়া দিয়ে দিন। এবার জিরা, বাদাম, পোস্ত বাটা দিয়ে নাড়ুন। সবশেষে জয়ফল-জয়ত্রী বাটা ও এলাচ-দারচিনি বাটা দিয়ে মশলা কষাতে থাকুন।
৪. মশলা ভালোভাবে কষানো হয়ে গেলে মাখিয়ে রাখা মাংস ঢেলে দিন। ভালোভাবে নাড়তে থাকুন।

৫. মশলা দিয়ে মাংস কষানো হলে দুধ ও পানি একত্রে মিশিয়ে ঢেলে দিন। চুলার আঁচ একেবারে কমিয়ে ঢেকে রাখুন ২০ মিনিট।
৬. ঢাকনা খুলে মাংসটি আরেকবার নাড়ুন। কেওড়া জল দিয়ে দিন। সেইসঙ্গে কাঁচামরিচ ও আলুবোখারা দিয়ে দিন। বাকি বেরেস্তার অর্ধেকটি হাত দিয়ে ভেঙে দিয়ে দিন। আবারো নাড়ুন। এবার ঢেকে দিন।

৭. পাঁচ মিনিট পর ঢাকনা খুলুন। তেল উপরে উঠে এলে চিনি ছড়িয়ে দিন। একবার নেড়ে নামিয়ে নিন। সার্ভিং ডিশে খাসির রেজালা ঢেলে উপরে বাকি বেরেস্তা ছড়িয়ে দিন। পরিবেশন করুন পোলাও কিংবা নান রুটি অথবা পরোটার সঙ্গে।

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA