মাছের বৃদ্ধি বাড়ানোর কিছুু কৌশল যা অনেকেই জানে না

মাছের বৃদ্ধি বাড়ানোর কিছুু কৌশল রয়েছে। মাছচাষিরা প্রায়ই মাছ দ্রুত বৃদ্ধিতে করণীয় বিষয়ে জানতে চান। মাছ দ্রুত বৃদ্ধিতে যা যা করবেন এ বিষয়ে আজকের আয়োজন…

 

 

মাছের কৌলিত্বাত্তিক গবেষণার অগ্রগতির সাথে সাথে দৈহিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার বিভিন্ন কৌশল মৎস্য বিজ্ঞানীরা উন্মোচন করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে মনোসেক্স পপুলেশন তৈরী, সিলেকটিভ ব্রিডিং, লাইন ব্রিডিং, ক্রস ব্রিডিং পদ্ধতিগুলো অনেকক্ষেত্রে সফলভাবে ব্যবহার করে অধিক বর্ধনশীল মাছের পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদিত পোনা চাষ করে শতকরা ২৫-৬০ ভাগ পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। আসুন জেনে নেই মাছের বৃদ্ধি বাড়ানোর কৌশলগুলো সম্পর্কে-

 

 

গাইনোজেনেসিস পদ্ধতিঃ

এমন একটি ফার্টিলাইজেশন প্রক্রিয়া যেখানে কেবল স্ত্রী মাছ থেকে সকল ক্রোমোসোম বা জীন গ্রহন করে পোনা উৎপাদন করা হয়। ফলে উৎপাদিত সব পোনা হয় মাতার বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। এক্ষেত্রে পিতা থেকে আগত ক্রোমোসোম সেট ফার্টিলাইজেশনে অংশগ্রহন করেনা তবে ফার্টিলাইজেশন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে ভূমিকা রাখে।

 

 

পরবর্তীতে নিষিক্ত ডিম বা জাইগোট বিভাজনের সময় প্রথম ক্লিভেজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই (মাতা থেকে প্রাপ্ত ক্রোমোসোম সেট ডুপ্লিকেট হওয়ার পর নব সৃষ্ট কোষ হিসেবে পৃথক হয়ে যাওয়ার মূহুর্তে) কোল্ড শক বা হিট শক দিতে হবে। ফলে ইরেডিয়েটেড বা রাসায়নিক উপায়ে নিষ্ক্রিয় ক্রোমোসোম সেট (পিতা থেকে প্রাপ্ত) বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং মাতা থেকে প্রাপ্ত ক্রোমোসোম সেট (ডিম্বাণু থেকে প্রাপ্ত) এবং তার ডুপ্লিকেট ক্রোমোসোম সেট (নিষিক্ত ডিমের কোষ বিভাজনের সময় ডিম্বাণুর ক্রোমোসোমের কার্বন কপি হিসেবে সৃষ্ট) সংযোজিত হয়ে নতুন একটি নিষিক্ত কোষ তৈরী হবে।

 

 

উক্ত নব সৃষ্ট নিষিক্ত কোষে কেবল মাতা থেকে প্রাপ্ত ক্রোমোসোমই থাকবে। ফলে সব পোনা হবে স্ত্রী ও ১০০% ইনব্রেড। অর্থ্যাৎ তারা মাতার ক্রোমোসোমে সংরক্ষিত বংশগত বৈশিষ্ট্য হুবহু বহন করবে। সুতরাং গাইনোজেনেসিস সেসব মাছের ক্ষেত্রে লাভজনক হবে যাদের পুরুষ অপেক্ষা স্ত্রীদের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

 

 

এভাবে পোনা তৈরী করে অধিক বর্ধনশীল পোনা উৎপাদন করা সম্ভব। আবার মাছের ক্ষেত্রে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় সৃষ্ট সেকেন্ড পোলার বডি ডিম্বানু নিষিক্ত হওয়ার পরও কিছু সময় ডিম্বানুর সাথে লেগে থাকে। সুতরাং ডিম্বানু নিষিক্ত হওয়ার পরপর কোল্ড শক বা হিট শক দিয়ে যদি সেকেন্ড পোলার বডিকে নিষিক্ত ডিম্বানুর সাথে মার্জ করে দেয়া যায় তাহলেও গাইনোজেন (সব স্ত্রী) পোনা তৈরী করা সম্ভব।

 

 

সেকেন্ড পোলার বডিকে মার্জ করা সম্ভব হলে নিষিক্ত ডিম্বানু পুনঃ বিভাজিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন হবেনা। কারণ, ডিম্বানুর ক্রোমোসোম সেট আর সেকেন্ড পোলার বডির ক্রোমোসোম সেট মিলে নতুন জাইগোট সৃষ্টি হবে। যা পরবর্তীতে বিভাজিত হয়ে যথানিয়মে গাইনোজেন পোনা উৎপাদন করবে। এই পদ্ধতিতে যেহেতু মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত সেকেন্ড পোলার বডিকে নিষিক্তকরণে কাজে লাগানো হয় তাই একে মিয়োটিক গাইনোজেনেসিস বলে। এক্ষেত্রে ১০০% স্ত্রী পোনা উৎপাদিত হবে কিন্তু ১০০% ইনব্রেড তৈরী করা সম্ভব হবেনা।

 

 

হরমোন ট্রিটমেন্ট মনোসেক্স তেলাপিয়া তৈরীর কৌশলঃ

অধিকাংশ প্রাণীর দুই ধরণের যৌন বৈশিষ্ট্য থাকে। প্রাইমারী সেক্সচুয়াল ক্যারেক্টার এবং সেকেন্ডারী সেক্সচুয়াল ক্যারেক্টার। প্রাইমারী সেক্সচুয়াল ক্যারেক্টার বলতে তার পুরুষ ও স্ত্রী নির্দেশক যৌনাংগ গঠিত হওয়া বুঝায়। এক্ষেত্রে হরমোনের তেমন কোন প্রভাব নেই। কিন্তু সেকেন্ডারী সেক্সচুয়াল ক্যারেকটার উন্নয়নের ক্ষেত্রে সেক্স হরমোনের প্রত্যক্ষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যেমন, শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরী হওয়া, বিপরীত লিংগের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা, আনুষাংগিক পুরুষ স্ত্রী বিভেদক দৃশ্যমান দৈহিক পরিবর্তন (মাছের ক্ষেত্রে দেহের রং, আঁইশ) ইত্যাদির ক্ষেত্রে সেক্স হরমোনের প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যায়।

 

 

মাছের ক্ষেত্রে যেহেতু জন্মের সাথে সাথে গোনাড ডেভেলপ হয়না সেহেতু যদি তার পোনাকে ইয়ক স্যাক (কুসুম থলি) শেষ হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে হরমোন মেশানো খাবার খাওয়ানো নিশ্চিত করা যায় তাহলে সঠিক ফলাফল আশা করা যায়। কারণ, একবার গোনাড ডেভেলপ হয়ে গেলে হরমোন মেশানো খাবার খাওয়ালে ফলাফল আশানুরূপ হবেনা। এমনকি উল্লেখযোগ্য কোন ফল পাওয়া যাবেনা।

 

 

অন্য খাদ্য গ্রহনের সুযোগ থাকলে পোনা হরমোন মেশানো খাদ্য নাও খেতে পারে। তাই ঐ সময় পোনাকে নিয়ন্ত্রিত স্থানে রাখতে হবে। আবার অধিকাংশ হ্যাচারী মালিক বলে থাকেন মনোসেক্স তৈরীর জন্য একটানা ২১ দিন হরমোন মেশানো খাদ্য খাওয়াতে হবে। তথ্যটি বিজ্ঞানসম্মত নয়। আসল কথা হলো গোনাড ডেভেলপ হওয়ার আগ পর্যন্ত খাওয়াতে হবে। অর্থ্যাৎ প্রতিটি পোনার ওজন ৫ গ্রাম হওয়া পর্যন্ত খাওয়াতে হবে। প্রতিটি পোনা ৫ গ্রাম ওজন হতে যতদিন সময় লাগে ততদিন।

 

 

কেননা একবার গোনাড ডেভেলপ হয়ে গেলে আর হরমোন খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। সব পুরুষ পোনা তৈরীর জন্য খাওয়াতে হবে পুরুষ হরমোন, ১৭ আলফা মিথাইল টেস্টোস্টেরন। আর সব স্ত্রী পোনা তৈরীর জন্য খাওয়াতে হবে স্ত্রী হরমোন, ইস্ট্রোজেন। নির্দিষ্ট মাত্রায় (সাধারণত ২ মিলিগ্রাম/কেজি খাদ্য) নির্ধারিত মেয়াদে হরমোন মেশানো খাদ্য খাওয়ালে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে।

 

 

মনোসেক্স তেলাপিয়া তৈরীর জন্য প্রথম থেকেই প্যারেন্ট স্টকের যতœ নিতে হবে। পুরুষ এবং স্ত্রী মাছকে একই জলাশয়ে পৃথক হাপায় রাখতে হবে। যখন পুরুষ এবং স্ত্রী মাছ পরিপক্ক হবে তখন তাদের প্রজনন ঘটানোর জন্য এক নেটে বা হাপায় রাখতে হবে। এক হাপায় রাখার পর তারা প্রাকৃতিক নিয়মে প্রজননে অংশগ্রহন করবে এবং ডিম নিষিক্ত হওয়ার পর স্ত্রী তেলাপিয়া নিষিক্ত ডিমকে তাদের মুখের মধ্যে নিয়ে নেবে।

 

 

প্রথম অবস্থায় নিষিক্ত ডিমের রং হবে গোলাপী, তারপর কমলা, তারপর বাদামী, সবশেষে কালচে বাদামী। ডিমের রং কালচে বাদামী হলে বুঝতে হবে ২/১ দিনের মধ্যে ডিম ফেটে রেণু বের হবে। সুতরাং এখনই তাদের তেলাপিয়ার মুখ থেকে হ্যাচিং ট্রেতে স্থানান্তর করতে হবে। হ্যাচিং ট্রেতে পরিস্ফুটনযোগ্য ডিম রাখার পর পানির প্রবাহ অব্যাহত রাখতে হবে। ট্রেতে অধিকাংশ ডিমের হ্যাচিং শেষ হলে ১/২ দিন পর পূর্ব থেকে প্রস্তুতকৃত হাপায় রেণু স্থানান্তর করতে হবে। এবং প্রথম দিন থেকেই হরমোন মেশানো খাদ্য খাওয়াতে হবে।

 

 

সাধারণত রেণুকে বডি ওয়েটের ৩০-৪০ ভাগ খাদ্য প্রদান করতে হয়। এবং ঐ খাদ্য দিনে ৩/৪ বার সরবরাহ করতে হয়। ভাল এরেশনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। অনেকে সতর্কতার জন্য স্ত্রী তেলাপিয়ার মুখ থেকে বাদামী বা কমলা রংয়ের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করেন। এক্ষেত্রে নিষিক্ত ডিম হ্যাচিং ট্রেতে বেশিদিন রাখতে হয়। নিষিক্ত হওয়ার পর থেকে রেণু হ্যাচ হওয়া পর্যন্ত প্রায় ২০-২১ দিন সময় লাগে। সুতরাং মায়ের মুখে নির্দিষ্ট সময় থাকার পর বাকি দিনগুলো ডিমগুলোকে হ্যাচিং ট্রেতে রাখতে হয়।

 

 

কোন কোন ক্ষেত্রে মুখের ভেতরেই রেণুর পরিস্ফুটন শুরু হয়ে যায়। প্রজননের পূর্বে হ্যাচারী মালিক সাধারণত ৫০-১০০ জোড়া পুরুষ স্ত্রী মাছ একই হাপায় রেখে দেয়। এবং প্রতি সপ্তাহে নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে হ্যাচিং ট্রেতে স্থানান্তর করে। ফলে কোন কোন হ্যাচারী মালিক/অপারেটর বলে থাকেন তেলাপিয়া প্রতি ১০ দিন পরপর ডিম দিয়ে থাকে। এটা ভুল ধারণা। তেলাপিয়া বছরে ৩/৪ বার ডিম দিয়ে থাকে। এর বেশি নয়।

 

 

এক্ষেত্রে অনেকগুলো প্রজননক্ষম পুরুষ স্ত্রী মাছ একই হাপায় থাকায় এমন বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়ে থাকে। কেননা সব সময় কোন না কোন জোড়া প্রজননে অংশ নেয়ায় তারা ধারাবাহিকভাবে নিষিক্ত ডিম পেতেই থাকে। যে মাছ থেকে নিষিক্ত ডিম একবার সংগ্রহ করা হয়েছে সেসব মাছ তারা যদি আলাদা হাপায় রাখে এবং ১০ দিন পর আবারও ডিম সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় তাহলে তাদের ধারণা সঠিক বলা যাবে। একবার প্রজননে অংশ নেয়া মাছ পুনরায় প্রজননক্ষম মাছের হাপায় রেখে এটা কোনক্রমেই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় যে তেলাপিয়া ১০ দিন পরপর ডিম দিয়ে থাকে।

 

 

সুপারমেল তৈরীর কৌশলঃ

ওয়াইওয়াই মেল বা সুপার মেল তৈরীর বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। তার মধ্যে একটি হলো এন্ড্রোজেনেসিস। সফলভাবে এন্ড্রোজেনেসিস সম্পন্ন করা গেলে যে পোনা উৎপাদিত হবে তার ৫০% হবে সুপার মেল (ওয়াইওয়াই মেল)। প্রথমে হরমোন ট্রিটমেন্ট করে পরে সাধারণভাবে প্রজননের মাধ্যমে সুপারমেল তৈরী করা সম্ভব। আবার প্রথমে হরমোন ট্রিটমেন্ট করে পরে গাইনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায়ও সুপারমেল তৈরী করা যেতে পারে।

 

 

সুপারমেল তৈরীর পদ্ধতিঃ

প্রথমে এফ ওয়ান জেনারেশন কে ইস্ট্রোজেন হরমোন ট্রিটমেন্ট দিতে হবে। ফলে পুরুষ পোনাগুলোও স্ত্রী পোনাতে পরিণত হবে কিন্তু তাদের জেনোটাইপ থাকবে এক্স ওয়াই। এরপর প্রজেনি টেস্টে যেতে হবে। হরমোন ট্রিটমেন্টের পর উৎপাদিত এক্স-ওয়াই স্ত্রী পোনাগুলোর সাথে একটি সাধারণ এক্স ওয়াই পুরুষের প্রজনন করাতে হবে।

 

 

যদি এফ টু জেনারেশনে উৎপাদিত পুরুষ:স্ত্রী পোনার অনুপাত ৫০:৫০ হয় তাহলে বুঝতে হবে এফ ওয়ান জেনারেশনের হরমোন ট্রিটমেন্ট এর ফলে কাঙ্খিত পরিবর্তন ঘটেনি, অর্থ্যাৎ উৎপাদিত পোনারা ছিল এক্সএক্স স্ত্রী। আর যদি উৎপাদিত সুপারমেল:মেল:স্ত্রী পোনার অনুপাত হয় ২৫: ৫০:২৫ তাহলে বুঝতে হবে এফ ওয়ান জেনারেশনে (হরমোন ট্রিটমেন্ট সফল হওয়ায়) এক্সওয়াই স্ত্রী পোনা উৎপাদিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত ছিল।

 

 

এফ টু জেনারেশনে পুরুষ স্ত্রী অনুপাত ৭৫:২৫ হলে দ্বিতীয় প্রজননে এক্সওয়াই পুরুষ ও ওয়াইওয়াই সুপার মেল মাছের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরে প্রজেনি টেস্ট করতে হবে। এফ টু জেনারেশনে উৎপাদিত পুরুষ পোনা কেবল এক্সওয়াই মেল হলে প্রজেনি টেস্টে পুরুষ:স্ত্রী পোনার অনুপাত হবে ৫০:৫০।

 

 

আর এফ টু জেনারেশনে উৎপাদিত পুরুষ পোনার মধ্যে ওয়াইওয়াই মেল (২৫%) থাকলে এফ থ্রি জেনারেশনে উৎপাদিত সব পোনা হবে পুরুষ (১০০% এক্সওয়াই)। এই পদ্ধতিতে সুপারমেল তৈরী করতে হলে আমাদের কমপক্ষে তিনটি প্রজনন কাল অতিক্রম করতে হবে।

 

 

মাছের সংকরায়নঃ

সাধারণত দুটি ভিন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে মিলন ঘটানোকে সংকরায়ণ বলে। অবস্থানের ভিন্নতার কারণে যখন একই প্রকার দুটি মাছের মধ্যে স্বাভাবিক মিলন সম্ভব হয় না, তখন এদের মধ্যে মিলন ঘটানোকেও সংকরায়ণ বলা যায়। সংকরায়ণের ফলাফল সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বাণী করা সম্ভব নয়। দুটি ভাল গুণাগুণ সম্পন্ন মাছের সংকরায়ণের ফলে প্রাপ্ত সংকর বিশিষ্ট গুণসম্পন (হাইব্রিড ভিগর) নাও হতে পারে।

 

 

সংকরায়ণের সফলতা দুটি মাছের ক্রোমোজোম সংখ্যার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। ক্রোমোজোম সংখ্যার ভিন্নতা বেশি হলে সংকরায়ণ সফল হয় না। প্রজাতি ভিন্নতার কারণে দুটি মাছের ক্রোমোজোম সংখ্যায় যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় তা গণ ভিন্নতার চেয়ে কম। ফলে গণ ভিন্নতার চেয়ে প্রজাতি ভিন্নতা সম্পন্ন দুটি মাছের সংকরায়ণ ভাল হয়।

 

 

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, দেশীয় মাগুর ও আফ্রিকান মাগুর একই গণ এর দুটি প্রজাতির মাছ। এদের মধ্যে সংকরায়ণ সম্ভব। কিন্তু এদের যেকোন একটির সহিত ভিন্ন গণের অন্য একটি মাছের মধ্যে সংকরায়ণ করা হলে তার সফলতা কম হবে।

 

 

বর্তমানে বাংলাদেশের হ্যাচারীগুলোতে বিভিন্ন কার্প জাতীয় মাছের মধ্যে নির্বিচারে সংকরায়ণ করা হচ্ছে। মৎস্য প্রজনন মৌসুমের শুরুতেই কতিপয় পুরুষ বা স্ত্রী মাছ একই সময়ে প্রজনন উপযোগী হয় না। অথচ তাদের পোনার চাহিদা বেশি থাকে। তখন কোন কোন হ্যাচারী অপারেটর অনিয়মিতভাবে এক প্রজাতির পুরুষ ও অন্য প্রজাতির স্ত্রী মাছের প্রজনন ঘটিয়ে থাকে।

 

 

হ্যাচারীসমূহে ঠান্ডা মাথায় কাতলার সাথে রুই বা মিরর কার্প, রুই এর সাথে মৃগেল বা ঘনিয়া, মৃগেলের সাথে ঘনিয়া বা কালিবাউস, সিলভার কার্পের সাথে বিগহেড ইত্যাদি মাছের সংকর উৎপাদন করে থাকে। ফলে দেশে কার্প জাতীয় মাছের বংশগত শুদ্ধতার সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

 

 

এ ধরণের পোনা বিক্রেতাগণ মৎস্য চাষিদের অনেক সময় প্রতারণা করে থাকে। যেমন কাতলা ও রুইয়ের সংকর পোনা বিক্রেতাগণ পোনার বড় মাথা দেখিয়ে বলে এটা কাতলার পোনা। আবার ঐ স্টকের রুইয়ের দেহের মত পোনা দেখিয়ে বলে এটা রুইয়ের পোনা।

 

 

সরল বিশ্বাসে মৎস্য চাষিগণ সংকর পোনাকে বিশুদ্ধ পোনা বলে ক্রয় করে থাকেন। প্রথম দিকে দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও এরূপ সংকর পোনার উৎপাদন আশানুরূপ হয় না। সরকারের এবং জনগণের উদ্যোগে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ চাষ করা হয়।

 

 

তাছাড়াও বন্যার কারণে ঐ সকল অবিশুদ্ধ মাছ নদ নদী খালে বিলে ছড়িয়ে যাচ্ছে। সুতরাং এ ধরণের অবিশুদ্ধ পোনা উৎপাদন বন্ধ করতে আইন করা প্রয়োজন। পোনা বিক্রেতাগণ জানান-এই সমস্ত সংকর পোনা যে হারে বিক্রি হয় সেই হিসেবে খাবার মাছ হিসেবে বাজারে বিক্রি হয় না। অর্থ্যাৎ সংকর পোনার বাঁচার হার খুবই কম।

 

 

বাংলাদেশের প্রধান প্রধান কার্প জাতীয় মাছের প্রজাতিগুলোর মধ্যে সংকরায়ণ করা সম্ভব কিন্তু এদের কোন সংকরই মাতা পিতার চেয়ে অধিক বৃদ্ধি পায় বলে জানা যায় না। তদুপরি এসব সংকর প্রজননক্ষম হওয়ার কারণে পরবর্তীতে তারা মাতা পিতা প্রজাতির যে কোনটির সংগে প্রজননে অংশগ্রহণ করতে পারে।

 

 

মাছ দ্রুত বৃদ্ধিতে যা যা করবেন শিরোনামে সংবাদের তথ্য ফিশারিজ এক্সটেসন থেকে নেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ ফারমস এন্ড ফারমারস ২৪

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA