একটি লাভজনক প্রকল্প হোল খাসী মোটাতাজাকরণ, জানুন কিভাবে শুরু করবেন?

আমাদের দেশে ছাগল পালনের লক্ষ্য কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাংস উৎপাদন। তাই খাসী মোটাতাজাকরণ প্রকল্প হতে পারে আপনার জন্য একটি লাভজনক প্রকল্প। বিশেষ করে যারা নতুন খামারি তারা ব্রিডিংয়ে যাওয়ার আগে খাসী মোটাতাজাকরণ প্রকল্প শুরু করতে পারেন। খাসী মোটাতাজাকরণ একদিকে যেমন ভালো লাভজনক, অন্যদিকে খাসী মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে আপনি ছাগল পালন সম্পর্কিত প্রাথমিক অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিতে পারেন। আমি নিজে শখের বশে খাসী মোটাতাজাকরণ নিয়ে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি খাসী মোটাতাজাকরণ অনেক লাভজনক একটি প্রকল্প। সঠিকভাবে খাসী মোটাতাজাকরণ করতে পারলে অসাধারণ ফলাফল পাওয়া যায় এবং আপনি খুব দ্রুত ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করতে পারবেন। আজ আমি খাসী মোটাতাজাকরণ সম্পর্কিত আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

 

 

খাসী মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের সুবিধাবলী:

 

 

১. ঝামেলা কম, খরচও তূলনামূলকভাবে কম।
২. অনেক কম পুঁজিতে খাসী মোটাতাজাকরণ প্রকল্প শুরু করা যায়

৩. খাসী যেকোনো সময় বিক্রি করে দেওয়া যায়, খাসী বিক্রির জন্য কোনো চিন্তা করার দরকার পড়েনা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো- অনলাইনে নিজের জিনিস বিক্রি করতে গিয়ে দালাল তকমা পাওয়া লাগেনা।

৪. খাসী কিনে ঠকার ভয় থাকেনা, সামান্য ঠকলেও অল্প কিছুদিন খাওয়ালেই তা পুষিয়ে নেওয়া যায়
৫. খাসী মারা যাওয়া ছাড়া মূলধন হারানোর ভয় থাকেনা।

৬. আপনার কাছে ভালোমানের খাসী আছে জানলে এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আপনার খাসী অগ্রাধিকার পাবে, আপনাকে বিক্রি করার জন্য কারো দ্বারস্থ হওয়া লাগবেনা এবং ভালো দাম পাবেন।
৭. খাসী সংগ্রহ করা খুবই সহজ, একটু কষ্ট করলেই সস্তায় ভালোমানের খাসী সংগ্রহ করা যায়।

 

খাসী মোটাতাজাকরণের ধাপসমূহ:

ভালোমানের খাসী সংগ্রহ করা:

 

 

ভালোমানের খাসী সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ্যমেয়াদে ভালোজাতের/ক্রস জাতের লম্বা-চওড়া খাসী ভালো, স্বল্প মেয়াদে দেশী খাসী ভালো। তবে একটু ভালো গ্রোথ ও ভালো গঠন দেখে কিনতে হবে। পিছনের পায়ে মাংস থাকতে হবে, চামড়া ঢিলা থাকতে হবে। ৮/৯ মাস বয়সী বা সদ্য দাঁত হওয়া খাসী মোটাতাজাকরণের জন্য খুব ভালো হয়। কোনোভাবেই স্বাস্থ্যবান খাসী কেনা যাবেনা। তাহলে আপনার ব্যবসা হওয়ার আগেই হয়ে যাবে।  আরেকটা কথা, যতটা সম্ভব শুকনো, হাড় জিরজিরে খাসী কিনবেন, তাহলে কম দামে পাবেন, লাভের অঙ্কটাও তরতর করে বেড়ে যাবে।

 

 

কৃমিমূক্তকরণ:

 

 

যেকোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, এখানে সামান্যতম ত্রুটিও আপনার পুরো প্রজেক্ট ভেস্তে দিতে পারে। দেখা গেলো আপনি খাওয়াবেন আপনার খাসীকে, মোটাতাজা হবে কৃমি।

 

 

কৃমিমূক্ত করার ক্ষেত্রে আমার কৌশল:

 

 

আমি প্রথমে একটা একটা খাসীকে খামারে এনে ৮/১০ দিন একেবারে যৎসামান্য খাবার দেই, কোনোমতে বেঁচে থাকার মত। তাতে লাভ দুইটা, ডিওয়ার্মিং হয়ে যায়, ছাগলের শরীরে বসবাসকারী কৃমির মত পরজীবীগুলোও দূর্বল হয়ে যায়। এবার কৃমির ঔষধ দিলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। কৃমির ঔষধ হিসেবে প্রথমে এ-মেক্টিন প্লাস চামড়ার নিচে দিতে হবে। তার চৌদ্দ দিন পর নাইট্রোনিক্স ইঞ্জেকশান দিতে হবে চামড়ার নিচে। আরো অনেক মুখে খাবার ঔষধ এবং ইঞ্জেকশান আছে, যেটাই দেন না কেনো ছাগলগুলো যেনো নিশ্চিতভাবেই কৃমি মূক্ত হয়। দুইটা ইঞ্জেকশানই দেওয়ার পর খাসীকে ৪/৫ দিন লিভার টনিক খাওয়াবেন। ১৫ দিন পর মূল শেডে তোলার আগে পি.পি.আর টিকাটা দিয়ে নেবেন। উকুন জাতীয় পরজীবীর ক্ষেত্রে ভারমিন ইঞ্জেকশান ভালো কাজ করে।

 

 

খাবার:

 

 

খাসীগুলো এখন আপনার মূল প্রজেক্টে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এই পর্যায়ে আপনার কাজ শুধুই পর্যাপ্ত প্রোটিন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহ করা। সঠিক মাত্রায় সঠিক খাবারই হবে আপনার ব্যবসার সিক্রেট। তাহলে খাবার মেনুটা দেখে নেওয়া যাক।

 

 

মোটাতাজাকরণের খাসীকে স্বাভাবিক অন্যান্য ছাগলের মতই খাবার দিতে হবে . নিম্নোক্ত উপাদানগুলো বেশী পরিমাণে দিতে হবে।

 

তথ্যসূত্রঃ poultrydoctorsbd

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA