রক্ত দেবার সময় রক্তদাতা যে সকল বিষয় খেয়াল রাখবেন

১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রক্ত সংগ্রহের আয়োজন করে। উৎসাহীরাও রক্তদানে এগিয়ে আসেন। তাদের রক্তদানেই মুমূর্ষূ রোগীর জীবন বাঁচে। কিন্তু রক্তদাতার শরীরের কথা ভুলে গেলে চলবে না। তার শরীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই রক্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে রক্তদাতাকেও কিছু বিষয়ে নজর রাখতে হবে। কারণ তার রক্ত অন্যজনের শরীরে যাবে। তখন রক্তদাতার শরীরের কোনও রোগ থাকলে তা রক্ত গ্রহীতার শরীরেরও প্রভাব ফেলবে। আবেগের বশে নয়, বরং শরীরের কী কী বিষয় ঠিক থাকলেই নিরাপদে রক্ত দেওয়া সম্ভব সেই ধারনা রাখতে হবে।

 

স্বাস্থ্যবিদদের মতে, রক্তদানে কিছু বিষয়ে নজর রাখুন। যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে_

 

 

কোনও অ্যান্টিবায়োটিক বা ইনসুলিন ট্রিটমেন্ট নিচ্ছেন? এক্ষেত্রে রক্ত দেওয়া নিরাপদ হবে না।
জ্বর বা সর্দি কাশি থাকলে রক্ত দেওয়া ঠিক হবে না।

 

 

অ্যালকোহল সেবনের গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাউকেই রক্ত দেওয়া যাবে না।
রক্তদাতার যদি কোনও ধরনের হার্টের সমস্যা, হাইপার টেনশন, মধুমেহ, ক্যান্সারের উপসর্গ, কিডনির অসুখ, বা কোনওরকম ক্রনিক অসুখ থাকে তবে কোনোভাবেই রক্ত দেওয়া যাবে না।

 

 

যেকোনও অস্ত্রোপাচার হলে ৬ মাসের মধ্যে রক্ত না দেওয়ার পরামর্শ স্বাস্থ্যবিদদের।
রক্ত দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনও ধরনের ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে না।

 

 

কোনওরকম ড্রাগ নিয়মিত সেবন করে এমন কারও কাছ থেকে রক্ত নেবেন না। কিংবা এমন কোনও রক্তদাতার রক্ত দেওয়া উচিত নয়।
অন্তঃস্বত্ত্বা অবস্থায় রক্তদান করা যাবে না।

 

 

পূর্ব অভিজ্ঞতায় যদি রক্ত দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে তবে রক্ত না দেওয়া ভালো।
অনেকের শরীরে হিমোগ্লোবিন কম থাকে। তারা যদি ওষুধ সেবন করেন তাহলে রক্তদান করবেন না।

 

 

১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন করা হয়। ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’-এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে প্রথম পালিত হয় বিশ্ব রক্তদান দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতিবছর এ দিবস পালন করে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৬০ বছরের যে কোনো সুস্থ মানুষ ৪ মাস পরপর রক্তদান করতে পারবেন। রক্তদাতার শরীরে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি বা এইডস, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিস এই ৫টি রোগ আছে কি-না, তা নিশ্চিত করতে হয়। এছাড়া রোগীর রক্তের সঙ্গে রক্তদাতার রক্তের গ্রুপিং এবং ক্রসম্যাচিং করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

 

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক জাগরন

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA