গবাদি পশু মোটাতাজা করন ও পশুর অ্যান্টিবায়োটিক হিসাবে কাজ করে এই ঘাস

গবাদি পশু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে গ্রোথ প্রোমোটার বা অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শুরু হয়েছিল আশির দশকে। কিন্তু এসব সিনথেটিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রাণিদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস করে। পশুখাদ্যে “প্লানটেইন ঘাস” ব্যবহার করে অ্যান্টিবায়োটিকের এই ক্ষতিকর প্রভাবের হাত থেকে গবাদি পশুকে রক্ষা ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধিতে সফলতা পাওয়া যায়।

 

পশুখাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে উৎপাদিত পশুপণ্য অর্থাৎ ডিম, দুধ ও মাংসের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়ে। আর এসব খাবার গ্রহণের ফলে মানুষের শরীরেও ব্যবহার পরবর্তী (রেসিডিউয়াল) ক্ষতিকারক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এতে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, হৃদরোগ জনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস, অটিজমসহ বিভিন্ন ভয়াবহ রোগ দেখা দেয়।

 

গবেষণায় দেখা যায়, ঔষধি উদ্ভিদ অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প পশুখাদ্য হতে পারে। এরকমই একটি বহুবর্ষজীবী ঘাস জাতীয় ঔষধি উদ্ভিদ হলো প্লানটেইন (Plantago lnceolata L.)। যা কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই পশুর শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটার কিংবা তার চেয়ে বেশি হারে বর্ধিত করবে।

 

গরু, ভেড়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে খুব সামান্য পরিমাণে (পোল্ট্রিতে ১%, ভেড়ায় ৪%, গরুতে ৫-১০%) প্লানটেইন ঘাস ও এর পাউডার মিশিয়ে খাওয়ালে প্রাণীর উচ্চ তাপমাত্রার পীড়ন (হিট স্ট্রেস) কমিয়ে প্রোটিন সংশ্লেষণ বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ায় মাংসের উৎপাদন, স্বাদ ও রং বৃদ্ধি পায় এবং পচনরোধ করে।

 

এটি হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে দুগ্ধবতী ও গর্ভবতী প্রাণীর দুধের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায় এবং সুস্থ-সবল বাচ্চা জন্ম দেয়। একইসঙ্গে ফ্যাটি এসিডের (ওমেগা-৬ এবং ওমেগা-৩) অনুপাত কমাতে সহায়তা করে। এতে মানুষের হার্ট ভালো থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও আয়ুষ্কাল বাড়ায়। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ক্যান্সার ও অটিজম প্রতিরোধ করে।

 

প্লানটেইন শীতপ্রধান অঞ্চলের ঘাস। এটি ৬০-২৪০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা পর্যন্ত সহ্য করতে পারে। তবে ২০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে বেশি ঔষধি গুণাগুণ থাকে। উৎপাদন ব্যয় কম হওয়ায় কৃষকরা এটি ব্যবহার করলে খুব কম খরচেই অধিক লাভবান হবেন।

 

নভেম্বরের শুরুতে বীজ ছিটিয়ে দিতে হবে। কোনো ধরনের বিশেষ যত্ন ছাড়াই এটি যে কোনো ধরনের মাটিতে জন্মাতে পারে। বীজ বপনের ৪৫-৫৫ দিন পর প্রথমবার কেটে নেয়া যায় এ ঘাস। এর পর প্রতি এক মাস পর পর কেটে নেয়া যাবে।

 

এই ঘাস বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুযায়ী উৎপাদনে প্রথম গবেষনা করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন।

তথ্যসূত্রঃ  এগ্রোবাংলা ডটকম

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA