ভেষজ উপায়ে সারা বছর কবুতরকে সুস্থ রাখার উপায়

যারা বাণিজ্যিক ভাবে কবুতরের খামার গড়েছেন তাদের জন্য এই পোস্ট টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বনাজি বা ভেষজ ইউজ করে কবুতরকে সারা বছর সুস্থ রাখার জন্য এই নিয়মটা ফলো করবেন।আমি ২ মাসের চার্ট এক সাথে দিয়ে দিয়েছি। বনাজির সাথে সিমিত কিছু ভিটামিন মিনারেল ও দিয়েছি।

আসুন জেনে নেই ভেষজ উপায়ে কবুতরকে সুস্থ রাখার উপায়–

* মাসের ১ তারিখ।। ১টা ছোট লেবুর রস + ১০ কোয়া রসুনর রস নিয়ে ২ লিটার পানিতে মিশিয়ে খাওয়াবেন।।

* মাসের ৪ তারিখ।। কালোজিরার তেল ১ চামুচ ১ কেজি খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।।

* মাসের ৭ তারিখ।। ১চামুচ লেবুর রস ১কেজি খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।।

* মাসের ১০ তারিখ।। ৫টা গোল মরিচ এবং ৩টা লং একটু পানি দিয়ে সিদ্ধ করে ২ লিটার সাদা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।।

* মাসের ১৩ তারিখ।। ১ চামুচ দারুচিনির গুড়া এবং হাফ চামচ লেবুর রস ১ কেজি খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।।

* মাসের ১৫+১৬+১৭ তারিখ ।। শুকনা অমলকী ৩টা + বহেড়া ২টা + হরিতকি ২টা ১ পোয়া পানিতে রাতের বেলায় ভিজিয়ে রেখে সকালে পানি ছেকে ২ লিটার সাধারন পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।। এভাবে টানা ৩ দিন।।

* মাসের ২০ তারিখ। কাঁচা আদা ৫০ গ্রামের ১টুকরা পিষে রস নিয়ে ২ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।।

* মাসের ২৩ তারিখ।। ৩টা তেজপাতা ১ পোয়া পানি দিয়ে সিদ্ধ করে ছেকে নিয়ে সেই পানি ২ লিটার সাদা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।।

* মাসের ২৬ তারিখ।। ৫টা তুলশি পাতার সিদ্ধ জল ২ লিটার সাদা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।।

* মাসের ২৮+২৯+৩০ তারিখ।। ৩ দিন ভিনেগার দিবেন। ৫ মিলি ১ কেজি খাবারে অথবা ৫ মিলি ১ লিটার পানিতে।।

* দ্বিতীয় মাসের ৪+৫+৬ তারিখ।। ৩ দিন মাল্টিভিটামিন দিবেন।।

* দ্বিতীয় মাসের ১০ তারিখ। ১ চামুচ অলিভ ওয়েল ২কেজি খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।।

* দ্বিতীয় মাসের ১৪ তারিখ।। ১ চামুচ রসুনের রস ১কেজি খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।।

* দ্বিতীয় মাসের ১৭ তারিখ।। ১ চামুচ মধু ১কেজি খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।। তবে এটা ঠান্ডা বা বৃস্টির সময় দিবেন।

* দ্বিতীয় মাসের ২০+২১+২২ তারিখ।। ভিটা থ্রি পাউডার ১ গ্রাম এবং ভিটা ডি প্লাস লিকুইড ১ মিলি ১ লিটার পানিতে। টানা ৩ দিন।

* দ্বিতীয় মাসের ২৬ তারিখ।। কাঁচা হলুদ ১ টুকরা ১ পোয়া পানি দিয়ে সিদ্ধ করে সিদ্ধ পানি ১ লিটার সাদা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।

দ্বিতীয় মাসের ৩০ তারিখ।। চিরতা বা চিরলতা ১০ গ্রাম রাতের বেলায় ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে পানি চেকে নিয়ে ২ লিটার পানিতে মিশিয়ে খাওয়াবেন।।

* গরম বেশি পড়লে ইলেকট্রমিন খাওয়াবেন লিটারে ২ গ্রাম।

*যে কোন খারাপ পায়খানা দেখলে আমের বিচির গুড়া ১ চামুচ + জামের বিচির গুড়া ১ চামুচ + কালো জিরার তেল ৫ মিলি ১ কেজি খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন, এভাবে টানা ৩ দিন।।
জামের সিজনে এবং আমের সিজনে বিচি গুলা সংগ্রহ করে নিবেন, তারপর বিচি গুলা ভাল ভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে ব্লেন্ডার করে গুড়া করে বৈয়ামে রেখে দিবেন, আগামি বছর পর্যন্ত এটা খাওয়াতে পারবেন। এটা অনেক উপকারি এটা মহামারি রোগ থেকে আপনার লফ্টকে বাচাবে।

* ২ মাস পরপর কৃমির ঔষধ খাওয়াবেন।।

* পারলে ১ দিন পর পর খামার পরিস্কার করুন।।

* বিশুদ্ধ পানি দিন।।

* ভাল মানের সুষম খাদ্য দিন।। খাবার তালিকায় অন্তত গম-বুটের ডাল-মুশুরি ডাল-মটর-বাজরা-ছোলা-চাউল এই কয় প্রকার হলেই চলবে।

* গ্রিট দিবেন নিয়মিত।। ভাল মানের গ্রিট দিবেন, বাজারের গ্রিট খাওয়ানোর সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন, বাজারের গ্রিটে ভাইরাস বেশি থাকে, কারন তারা পরিস্কার কম করে, চেস্টা করবেন নিজে গ্রিট বানানোর। গ্রিট ২ থেকে ৩ দিন পর পর দিতে পারেন। এতে কবুতরের হজম এর জন্য খুবই সহায়ক হবে। এবং বেবি ও ডিমের জন্য বেস্ট, আর একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে যে গ্রিট ১৫ দিন পর পর রোদে দিয়ে শুকিয়ে নেওয়া ভাল, এতে ফাঙ্গাস হবার ভয় থাকে কম।

* বিরতি দিয়ে ব্রীডিং করাবেন।। ২-৩ বার বেবি নেওয়ার পরে নর-মাদিকে আলাদা রাখবেন অন্তত ১০ দিন।

* জীবাণু নাশক ছিটাবেন মাসে অন্তত ১ বার ।।

* অনর্থক বা অতিমাত্রায় zinc, ad3e e-sell নিয়মিত প্রয়োগ থেকে বিরত থাকুন।।

* সব দরজা জানালা বন্ধ করে খামারে গ্যাস তৈরি করবেন না। কিছু খোলা রাখবেন।।

* অনর্থক অ্যান্টিবায়োটিক দিবেন না বা কয়েক পদের অ্যান্টিবায়োটিক এক সাথে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।।

* ঔষধ ও ভিটামিন ভাল ভাবে সংরক্ষন করুন। যেমন অনেকেই আছেন প্যাকেট ভাঁজ করে রাখেন এতে এর গুনাগুন নষ্ট হয়। তাই এটি এয়ার টাইট বৈয়ামে ও বোতল গুলো ভাল করে বন্ধ করে রাখুন।।

* কবুতর ঝিমানো বা লোম ফুলিয়ে বসে থাকা বা সবুজ পায়খানা মানেই অসুস্থ না। এ ক্ষেত্রে অহেতুক ঔষধ দিবেন না।।

* পোলট্রি ভ্যাকসিন দিবেন না।। যদি ভ্যকসিন দিতেই হয় তাহলে শুরু থেকেই এভাবে দিতে হবে। BCRDV- RDV- PIGEON FOX- LASOTA – CHOLERA এভাবে ব্যবহার করবেন, ফলাফল ভাল পাবেন।

* খাদ্য কিনে আনার পর ভাল ভাবে ঝেরে রোদে শুকিয়ে বা আগুনে হালকা গরম করে কন্টিনারে বা বৈয়ামে বরে তারপর খাওয়াবেন।।

* ভুট্টা ভাঙ্গা + পোল্ট্রির আদার এই গুলা খাওয়াবেন না।

*দয়াকরে না বুঝে কোন ঔষধ প্রয়োগ করবেন না।

*আর একটা বিষয় মাথায় রাখবেন খাদ্য বা পানি বাড়ালে মেডিসিন গুলার পরিমানটা অবশ্যই বাড়বে।

তথ্যসূত্রঃ কৃষি সংবাদ

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA