ত্বকের ধরন বুঝে ব্যাবহার করুন হলুদের ফেস প্যাক, রইলো ১০ রকম ফেস প্যাক

খাবার হিসাবে ব্যাবহার করা ছাড়াও একাধিক রোগ প্রতিরোধকারী ঔষধীয় গুণাগুণ হিসাবে হলুদ ব্যাবহার করা হয়। হলুদের ঔষধি গুণ মূলত পলিফেনল এবং কারকিউমিন নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্টের ওপর নির্ভর করে। যা ব্রণ সহ একাধিক প্রদাহজনক অবস্থা পরিচালনা করতে সহায়তা করে (1)। মানবদেহে হলুদের একটা ভেষজ প্রভাব রয়েছে, তা সে পথ্য হিসেবে বা ওরালি গৃহীত হোক বা ত্বকের ওপর প্রয়োগ করা হোক। এই নিবন্ধে আমরা হলুদের গুণাগুন সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করবো। আমাদের ত্বকের ওপর হলুদের প্রভাব সংক্রান্ত বিষয়ে এই আলোচনা থেকেই জানতে পারা যাবে।

হলুদ দিয়ে তৈরী ফেস প্যাক বা প্রলেপের উপকারীতা

ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যক্টেরিয়া নাশক

কারকিউমিনে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল বা ব্যাক্টেরিয়া নাশক উপাদান। শূয়োরের ত্বকের ওপর একটি টেস্ট টিউব গুবেষণা হয়। যা থেকে জানা গিয়েছে যে লরিক অ্যাসিড সহ কারকিউমিন পি ব্রণ বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। ব্যাক্টেরিয়ার কারণেই সাধারণত প্রদাহজনিত ব্রণ হতে দেখা যায় (3)।

প্রদাহ নাশক

কারকিউমিন প্রদাহনাশক উপাদানযুক্ত। একটি গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে খাদ্য হিসেবে হলুদ গ্রহন করলে অথবা ত্বকে হলুদের প্রলেপ লাগালে ব্রণ বা অন্যান্য সমস্যার কারণে ত্বকে যে জ্বালা যন্ত্রনার সম্ভবনা দেখা যায় তা সহজেই নিরাময় হয়। এইভাবে ত্বক সুস্থ্য, স্বাভাবিক এবং জীবানুমুক্ত থাকে।

কালো দাগ ছোপ দূর করে

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে হলুদ সমৃদ্ধ ক্রীম বা প্রসাধন সামগ্রী হাইপারপিগমেন্টেশানের প্রবণতা অনেকাংশে দূর করে (4)। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে ব্রণের ফলে ত্বকে যে কালো দাগছোপ দেখা যায় তা দূর করে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

হলুদ ব্যবহারের ফলে অতিবেগুনী রশ্মি বা আল্টা ভায়োলেট রে এর ফলে ত্বকের যে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভবনা দেখা যায় সেই সম্ভবনা হ্রাস পায়।বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ত্বকে ভাঁজ পরার প্রবণতা, হলুদ ব্যবহারের কারণে বেশ কমে যায়।

হলুদ সহযোগে ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রস্তুত ১০ টি ফেস প্যাক
ফেসপ্যাক গুলির বিষয়ে নিম্নে আলোচনা করা হল –

১. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হলুদ এবং বেসন মিশ্রিত ফেস প্যাক

উপকরণ

১ চা চামচ ক্রীম বা দুধের সর
২ চা চামচ বেসন গুঁড়ো

১ চিমটে হলুদ গুঁড়ো
১ চা চামচ চন্দনকাঠের গুঁড়ো
আমণ্ড অয়েল বা অলিভ অয়েল (ঐচ্ছিক)

ব্যবহারের পদ্ধতিঃ উপরিক্ত সবকটি উপাদানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মতন মিশিয়ে নিতে হবে। তবে শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে কয়েক ফোঁটা আমণ্ড অয়েল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। দুধের সর, বেসন গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, চন্দনকাঠের গুঁড়ো সব কটি উপাদানকে একসাথে মিশিয়ে একটা প্রলেপ তৈরী করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে ঐ প্রলেপ মসৃণ প্রকৃতির হয়। এরপর এই প্রলেপ সমগ্র মুখমণ্ডল সহ গলার ত্বকেও লাগিয়ে নিতে হবে। অন্তত ১৫ মিনিট সময় এই প্রলেপ লাগিয়ে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর ঈষদোষ্ণ গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার এই প্রলেপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

কী ভাবে কাজ করে

ক্রীম বা দুধের সর – এই উপাদান ব্যবহারের ফলে ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকে। একইসাথে ত্বকে ভিটামিন এবং মিনারেলস যোগ হয়। এরফলে ত্বক মসৃণ হয়।
বেসন – বেসন গুঁড়ো হলো এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা ত্বকের শুকনো এবং মৃত কোষ গুলিকে দূর করে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখে।

চন্দনকাঠের গুঁড়ো – একাধিক ভিটামিন এবং মিনারেলস সমৃদ্ধ চন্দনকাঠের গুড়ো ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং উজ্জ্বল করে তোলে। এই গুঁড়ো মূলত এক্সফলিয়েটার হিসেবে কাজ করে।
আমণ্ড অয়েল – ত্বকের মৃত কোষ গুলিকে দূর করে ত্বক পরিশুদ্ধ করে। এই ফেস প্যাক মূলত তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

২. ব্রণর প্রবণতাযুক্ত ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা এবং হলুদের প্রলেপ

উপকরণ

২ চা চামচ মুলতানি মাটি
১ চা চামচ দই

১/২ অ্যালোভেরা জেল
হলুদ গুঁড়ো

ব্যবহারের পদ্ধতিঃ মুলতানি মাটি, দই, টাটকা অ্যালোভেরা জেল এবং হলুদ এই সবকটি উপদানকে একটি পাত্রের মধ্যে নিতে হবে।এগুলিকে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।ত্বকের ওপর এই প্রলেপ লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে।নির্দিষ্ট সময় পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।যদি বাড়িতে অ্যালোভেরা গাছ না থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে বাজার থেকে প্যাকেটজাত অ্যালোভেরা জেল কিনে নিতে হবে। যদিও এই প্যাকেটজাত পণ্যের তুলনায় গাছ থেকে সংগ্রহ করা অ্যালোভেরা জেল বেশি বিশুদ্ধ।সপ্তাহে বেশ কয়েকবার এই প্রলেপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও ত্বকের অস্বস্তিজনিত কারণেও এই প্রলেপ ব্যবহার করা যায়।

কীভাবে কাজ করে

অ্যালোভেরা – অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ অ্যালোভেরা জেল ত্বক মসৃন করতে সহায়তা করে। ফুসকুরি, ত্বকের জ্বালা যন্ত্রনা, ইত্যাদি দূর করার ক্ষেত্রে খুবই উপযোগী।
দই – ত্বকের ওপর দই ব্যবহার করলে দইয়ের মধ্যস্থিত ব্যাক্টেরিয়া ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

মুলতানি মাটি – ত্বকের ওপর এই উপাদানের ব্যবহার ম্যাজিকের মতন কাজ করে। মুলতানি মাটিতে রয়েছে প্রয়োজনীয় মিনারেলস যেমন কোয়ার্জ, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সিলিকা, ডলোমাইট, এবং ক্যালসাইট ইত্যাদি যা ত্বকের সর্বাঙ্গীন উন্নতি ঘটায়।

৩. সেন্সেটিভ স্ক্রিন বা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য চন্দনকাঠের গুড়ো এবং হলুদ মিশ্রিত প্রলেপ
হলুদ এবং চন্দনগুঁড়ো মিশ্রিত প্যাক ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব শুষে নেয় এবং ত্বককে মসৃন এবং ঝকঝকে করে তোলে।

উপকরণ

চন্দনকাঠের গুঁড়ো
হলুদ গুঁড়ো
গোপাপ জল

ব্যবহারের পদ্ধতিঃ একটা পাত্রের মধ্যে চন্দনকাঠের গুঁড়োর সাথে ১ চিমটে হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে।এর সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে একটা প্রলেপ তৈরী করে নিতে হবে।এই প্রলেপ ত্বকের ওপর লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখতে হবে।নির্দিষ্ট সময় পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।সপ্তাহে অন্তত ২ বার এই প্রলেপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে

চন্দনকাঠের গুঁড়ো – একাধিক মিনারেলস সমৃদ্ধ চন্দনকাঠ ত্বকের স্বাস্থ্যোন্নতি করে। একইসাথে এটা এক্সফলিয়েটর হিসেবেও কাজ করে।
গোলাপ জল – গোলাপ জলে রয়েছে প্রদাহ নাশক উপাদান যা শুষ্ক এবং অস্বস্তিদায়ক ত্বককে মসৃন করে তোলে।

৪. শুষ্ক ত্বকের জন্য হলুদ এবং এগ হোয়াইট বা ডিমের সাদা অংশ সমন্বিত ফেস প্যাক

উপকরণ

১ টা ডিম
অলিভ বা আমণ্ড অয়েল

১/২ চা চামচ গোলাপ জল
১/২ চা চামচ পাতিলেবুর রস
হলুদ গুঁড়ো

ব্যবহারের পদ্ধতিঃডিমের সাদা অংশের সাথে কয়েক ফোঁটা অলিভ বা আমণ্ড অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে। এর সাথে গোলাপ জল, পাতিলেবুর রস, এবং এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার এই প্রলেপ শরীরের যে কোনো শুষ্ক ত্বকযুক্ত স্থানে বিশেষত মুখ, কনুই, এবং হাঁটুতে লাগিয়ে নিতে হবে। ত্বকের ওপর লাগানো প্রলেপ একদম শুকিয়ে গেলে তা অল্প গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ বার এই প্রলেপ লাগানো যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে

ডিম – এটা একটা ধারক হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের চুলকুনি এবং অস্বস্তিদায়ক প্রবণতার নিরাময় করে।
গোলাপ জল – গোলাপ জলে রয়েছে প্রদাহ নাশক উপাদান যা শুষ্ক এবং অস্বস্তিদায়ক ত্বককে মসৃন করে তোলে।
অলিভ অয়েল – অলিভ অয়েলে রয়েছে হাইড্রেটিং স্কোয়ালিন এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।

৫. রোদে পোড়া ভাব বা ট্যান হওয়া ত্বকের জন্য হলুদ, দই এবং টমেটো মিশ্রিত প্রলেপ –

উপকরণ

১ টা টমেটো
১ চা চামচ পাতিলেবুর রস

১ টেবিল চামচ আনফ্লেভারড দই
১ চিমটে হলুদ

ব্যবহারের পদ্ধতিঃ প্রথমে টমেটো কেটে রস বের করে নিতে হবে। এরসাথে পাতিলেবুর রস এবং দই যোগ করে নিতে হবে। এবং সবশেষে এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে একটা প্রলেপ তৈরী করতে হবে।
ট্যান পড়ে যাওয়া ত্বকে ১৫ মিনিট এই প্রলেপ লাগিয়ে রাখার পর ঈষদোষ্ণ জল দিয়ে তা ধুয়ে ফেলতে হবে।

কীভাবে কাজ করে

এই প্রলেপে ব্যবহৃত সব কটি উপাদান ব্লিচিং বৈশিষ্ট্যযুক্ত হওয়ার কারণে সহজেই ত্বকের রোদে পোড়াভাব দূর করে। এছাড়াও ভিটামিন, মিনারেলস এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ যুক্ত দই ত্বকের পরিচর্যা করে।

৬. দ্রুত ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফেরাতে হলুদ, বেসন এবং পাতিলেবুর রস দিয়ে তৈরী ফেস প্যাক

উপকরণ

২ চা চামচ বেসন
১/২ চা চামচ হলুদ
১/২ চা চামচ লেবুর রস

ব্যবহারের পদ্ধতিঃ বেসন, হলুদ, পাতিলেবুর রস এবং প্রয়োজন মতন জল মিশিয়ে প্রলেপ তৈরী করতে হবে।ত্বকের ওপর এই প্রলেপ বেশ কিছুটা সময় লাগিয়ে রাখতে হবে।১৫ মিনিট পর ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে।হলুদের ব্যাপারে সচেতন থাকা দরকার। কারন যদি কারোর বিবর্ণ ত্বক হয় তাহলে হলুদ ব্যবহারের ফলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পাবে।প্রলেপ লাগানো ত্বক ধুয়ে ফেলার পর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে হবে।সপ্তাহে একাধিকবার এই প্রলেপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে

পাতিলেবুর রস – লেবু আম্লিক প্রকৃতির হয় তাই সহজেই ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব দূর করে।
বেসন – বেসন গুঁড়ো হলো এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা ত্বকের শুকনো এবং মৃত কোষ গুলিকে দূর করে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখে।

৭. ত্বকের মৃত কোষ দূর করার জন্য হলুদ, মধু, পাতিরবুর রস এবং গোলাপ জল ইত্যাদির সমন্বয়ে তৈরী ফেস প্যাক

উপকরণ

২ চা চামচ মধু
১ চা চামচ গোলাপ জল

১/২ চা চামচ পাতিলেবুর রস
১/৪ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো

ব্যবহারের পদ্ধতিঃ ওপরের সব কটি উপাদানকে একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে।প্রলেপ তৈরী হয়ে গেলে তা মুখ এবং গলার ত্বক সহ দেহের প্রয়োজনীয় স্থানে লাগিয়ে নিতে হবে।২০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর তা ধুয়ে ফেলতে হবে।প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১ বার ব্যবহার করা যাবে।

কীভাবে কাজ করে

মধু – অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ মধু ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে।
গোলাপ জল – গোলাপ জলে রয়েছে প্রদাহ নাশক উপাদান যা শুষ্ক এবং অস্বস্তিদায়ক ত্বককে মসৃন করে তোলে।
পাতিলেবুর রস – আম্লিক প্রকৃতির হওয়ার কারণে সহজেই ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব দূর করে।

৮. উজ্জ্বল ত্বকের জন্য হলুদ, দই এবং আমণ্ড অয়েল ইত্যাদি দিয়ে তৈরী ফেস প্যাক

উপকরণ

১/ ৪ চা চামচ হলুদ
১ চা চামচ দই
১/২ চা চামচ আমণ্ড অয়েল

ব্যবহারের পদ্ধতিঃ হলুদ, দই এবং আমণ্ড অয়েল এই তিনটি উপাদানকে একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রিত প্রলেপ ত্বকের ওপর লাগিয়ে নিতে হবে। ১৫-২০ মিনিট পর জল দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে।
সপ্তাহে ১-২ বার এই প্রলেপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে

আমণ্ড অয়েল – মৃত কোষ দূর করে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
দই – দইতে উপস্থিত ব্যাক্টেরিয়া, ত্বকের মধ্যস্থিত অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়া বিশেষত যেগুলি ব্রণ তৈরী করে, তাদের নিরাময় করে। এইভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যোন্নতি করে।

৯. অ্যান্টি এজিংয়ের উপযোগীতার জন্য হলুদ এবং দুধের সমন্বয়ে তৈরী ফেস প্যাক

উপকরণ

১/২ চা চামচ দুধ
১/২ চা চামচ হলুদ

ব্যবহারের পদ্ধতিঃ দুধ এবং হলুদ মিশিয়ে প্রলেপ তৈরী করে নিতে হবে।মুখে, হাতে, গলায় এই প্রলেপ ভালো করে লাগিয়ে নিতে হবে।১০-১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে শরীরের প্রলেপ লাগানো অংশ ধুয়ে ফেলতে হবে।

কীভাবে কাজ করে

দুধ – এই উপাদান শুকনো ত্বকের লাবণ্য বৃদ্ধি করে। কোষের বৃদ্ধি ঘটায় এবং ত্বকের অকাল বার্ধক্যের সম্ভবনা হ্রাস করে।

১০. ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকরী ফেস প্যাক
এটি এমন একটি প্যাক বা প্রলেপ যা সর্বাঙ্গীনভাবে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে।

উপকরণ

১/ ৪ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো
১/২ চা চামচ আমণ্ড অয়েল

১/২ পাতিলেবুর রস
২ টেবিল চামচ গাজরের রস

১ টেবিল চামচ মূলোর রস
২ চা চামচ মধু

১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল
১ চা চামচ ইওগার্ট বা দই

২ টো জাফরান
১ চা চামচ গোলাপ জল

১ চা চামচ গ্লিসারিন
ওট গুঁড়ো বা বেসন

ব্যবহারের পদ্ধতিঃ ওপরের সব কটি উপাদানকে একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে। যদি ঐ প্রলেপের ঘনত্ব কম হয় তাহলে প্রয়োজনানুসারে একটু বেসন বা ওট গূঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে যাতে প্রলেপের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। গলায় এবং মুখে ঐ প্রলেপ লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখতে হবে। মুখে লাগানো ঐ প্রলেপ কে গরম কাপড়ের সাহায্যে ঢেকে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর তা ধুয়ে ফেলতে হবে।
মাসে ১ বার এই প্রলেপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে

গাজরের রস – এই রস পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন এবং মিনারেলস সমৃদ্ধ। এছাড়াও গাজর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যুক্ত হওয়ার কারণে ত্বকের কোষ গুলি সজীব এবং সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।
মধু – অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ মধু ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে।

অ্যালোভেরা – অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ অ্যালোভেরা ত্বক মসৃন করে। এছাড়াও এটা র‍্যাশ বা ফুসকুরি, ত্বকের জ্বালা যন্ত্রনা, প্রদাহ নিরাময় করে ত্বকের অস্বস্তি দূর করে।
দই – দইতে উপস্থিত ব্যাক্টেরিয়া, ত্বকের মধ্যস্থিত অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়া বিশেষত যেগুলি ব্রণ তৈরী করে, তাদের নিরাময় করে। এইভাবে ত্বকের স্বাস্থ্যোন্নতি করে।

বেসন – বেসন গুঁড়ো হলো এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা ত্বকের শুকনো এবং মৃত কোষ গুলিকে দূর করে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখে।
আমণ্ড অয়েল – মৃত কোষ দূর করে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

গোলাপ জল – গোলাপ জলে রয়েছে প্রদাহ নাশক উপাদান যা শুষ্ক এবং অস্বস্তিদায়ক ত্বককে মসৃন করে তোলে।
গ্লিসারিন – প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের অপরিশুদ্ধ অংশ ক্ষত চিহ্ন গুলিকে দূর করে।

জাফরান – স্যাফরন ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর করতে সহায়তা করে এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে।
পাতিলেবুর রস – আম্লিক প্রকৃতির হওয়ার কারণে সহজেই ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব দূর করে।

মূলোর রস – বিশেষ করে এই উপাদান ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে।
ত্বকে হলুদের প্রলেপ লাগানোর ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশাবলী
ত্বকে হলুদের প্রলেপ লাগানোর ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা দরকার। যথা –

খুব যৎ সামান্য পরিমাণে হলুদ গুঁড়ো ব্যবহার করা উচিৎ কারণ বেশি পরিমান হলুদ ব্যবহারের ফলে ত্বকে হলদে ছোপ পরার একটা সম্ভবনা থাকে। সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য ফ্রেশ বা টাটকা উপাদান সামগ্রী ব্যবহার করা দরকার। পাতিলেবু রসের পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া দরকার। কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত রসে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। ওপরের নিবন্ধে বিভিন্ন ধরণের ত্বকের জন্য উপযোগী ফেস প্যাক বা প্রলেপের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। হলুদ ভারতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। রান্নাঘর থেকে শুরু করে প্রসাধন সামগ্রী সর্বত্রই হলুদের অবাধ যাতায়াত। খাদ্য হিসেবে এবং ত্বক পরিচর্যার উপাদান হিসেবে হলুদের অ্যান্টিসেপ্টিক বা জীবানুনাশক বৈশিষ্ট্যের কথা আমাদের সকলেরই মোটামুটি জানা জিনিস। আলোচ্য নিবন্ধ ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে হলুদের গুনাগুণ সম্বদ্ধে পাঠকের একটা ধারণা হবে বলে আশা করা যায়।

তথ্যসূত্রঃ স্টাইল কেজ

Add a Comment

Your email address will not be published.

CAPTCHA